সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: উলুবেড়িয়া শহরের আশেপাশে থাকা প্রায় শতাধিক ছোটবড় কারখানার দূষিত কালো জল নদীর জলে মিশছে। কিন্তু কোন কারখানা থেকে দুর্গন্ধযুক্ত এই জল নদীতে মিশছে সেটা স্পষ্ট না হওয়ায়, নদী দূষণ আটকানো সম্ভব হচ্ছে না। সমস্যা সমাধানে এবার দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদকে সঙ্গে নিয়ে কারখানা পরিদর্শনের পরিকল্পনা করল উলুবেড়িয়া ১ নং ব্লক প্রশাসন। যৌথ পরিদর্শনে সমস্যার সুরাহা হবে বলে আশা ব্লক প্রশাসনের কর্তাদের।
উলুবেড়িয়া শহরের পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে হুগলি নদী। এই নদীর জল শোধন করে তা পানীয় জল হিসেবে উলুবেড়িয়া পুর এলাকা ছাড়াও বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতে সরবরাহ করা হয়। অভিযোগ, কয়েকমাস ধরে শহরের মধ্যে বয়ে যাওয়া পূর্ব মেদিনীপুর ক্যানাল দিয়ে বিভিন্ন কারখানার দূষিত, দুর্গন্ধযুক্ত কালো জল নদীতে মিশছে। শুধু তাই নয়, ক্যানাল দিয়ে যাওয়া জলের দুর্গন্ধে অতিষ্ট দুইপাড়ে বসবাসকারী মানুষ। বিষয়টি নিয়ে উলুবেড়িয়া ১ নং ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কারখানা পরিদর্শনের পাশাপাশি গত মাসে কুলগাছিয়ার একটি কারখানাকে নোটিস দেওয়া হয়। যদিও তাতে কাজ হয়নি। এখনও যথারীতি কারখানার দূষিত জল নদীতে মিশছে। উলুবেড়িয়া শহরের নাগরিকদের আভিযোগ, প্রতি মাসের শুরু ও শেষের দিকে পূর্ব মেদিনীপুর ক্যানাল দিয়ে এই জল এসে নদীতে মিশছে। নদীর জল দূষণের পাশাপাশি পরিবেশ দূষণও হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই পরিস্থিতি হলেও সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ নাগরিকদের। পরিবেশকর্মী শুভ্রদীপ ঘোষ অভিযোগ করেন, উলুবেড়িয়ার আশেপাশে থাকা বহু কারখানার দূষিত জল বিভিন্ন খালে মিশছে। তার জেরে এই পরিস্থিতি। উলুবেড়িয়া ১ নং ব্লকের বিডিও এইচএম রিয়াজুল হক জানান, নদী দূষণ আটকাতে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদকে নিয়ে যৌথ পরিদর্শন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে কোনওভাবেই নদীর জল দূষিত করা যবে না। এই ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানান বিডিও এইচ এম রিয়াজুল হক। নিজস্ব চিত্র