Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অভিষেকের সভায় তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল, হুঁশিয়ারি

বিধায়ক ও ব্লক সভাপতির দ্বন্দ্ব ছিলই। এবার অভিষেকের সভাস্থলে সেই দ্বন্দ্ব প্রকট হল। রবিবার নওদা আমতলার ময়দানে তৃণমূল প্রার্থী শাহিনা মমতাজের হয়ে প্রচারে আসেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

অভিষেকের সভায় তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল, হুঁশিয়ারি
  • ৩০ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নওদা: বিধায়ক ও ব্লক সভাপতির দ্বন্দ্ব ছিলই। এবার অভিষেকের সভাস্থলে সেই দ্বন্দ্ব প্রকট হল। রবিবার নওদা আমতলার ময়দানে তৃণমূল প্রার্থী শাহিনা মমতাজের হয়ে প্রচারে আসেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দুপুর দেড়টা নাগাদ কলকাতা থেকে অভিষেকের হেলিকপ্টার সভার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার পরেও সভাস্থল ছিল কার্যত ফাঁকা। নওদার তৃণমূল ব্লক সভাপতি শফিউজ্জামান শেখ ওরফে হাবিব ও তাঁর লোকজন অনুপস্থিত ছিল। মঞ্চে থাকা নেতাদের মাথায় হাত। কিছুক্ষণ পর ব্লক সভাপতি হাজার পাঁচেক লোক নিয়ে সভাস্থলে আসেন। সভার এক পাশে জমায়েত করে দাঁড়িয়েছিলেন সকলে। কিন্তু মূল মঞ্চের সামনে কিছুতেই ঢুকছিলেন না। জেলা নেতৃত্ব এবং অভিষেকের নিরাপত্তা রক্ষীদের অনুরোধে সভা শুরুর মাত্র কয়েক মিনিট আগে কর্মীদের ভিতরে ঢুকতে বলেন ব্লক সভাপতি। কিন্তু সভাস্থলে কয়েক মিনিটের মধ্যে বিপুল সংখ্যক লোক ঢুকতে গিয়ে সমস্যা তৈরি হয়। ডি জোনের পর প্রথম যে ঘেরা অংশ, সেখানে ঢুকে পড়ে অধিকাংশ কর্মী সমর্থক। সেখানে আগে থেকে বসে থাকা বেশ কিছু কর্মীদের হটিয়ে দেওয়া হয়। সে সময়ে বিধায়ক গোষ্ঠী ও ব্লক সভাপতি গোষ্ঠীর  কর্মীদের মধ্যে শুরু হয় হাতাহাতি। এমনকী চেয়ার ছোড়াছুড়ি পর্যন্ত হয়। বেশ কয়েকটি চেয়ারও ভেঙে ফেলা হয়। অসহায় অবস্থায় মঞ্চের এক কোণে দাঁড়িয়ে ছিলেন বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী। সাংসদ আবু তাহের খান, জেলা তৃণমূল সভাপতি অপূর্ব সরকার সকলকে সংযত হতে বলেন। তখন হাবিবকে মঞ্চে ডেকে নেয় জেলা নেতৃত্ব। মঞ্চ থেকে মাইক ধরে তৃণমূলের ব্লক সভাপতি কর্মীদের শান্ত থাকার বার্তা দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই অভিষেক মঞ্চে ওঠেন। হাবিবকে পাশে বসিয়ে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন তিনি। এরপর ব্লক সভাপতির অনুগামীরা ব্যাপক উৎসাহিত হয়ে সভাস্থল করতালিতে ভরিয়ে দেয়। 
তবে বিশৃঙ্খলার এই ঘটনা কানে যেতেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক নওদায় নির্বাচনী জনসভা থেকে বিরোধীদের পাশাপাশি দলের বিদ্রোহীদেরও চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অভিষেক বলেন, যাঁরা যে দলের জার্সি পরে আছেন, সেই জার্সি পরে নিজের দলের হয়ে খেলুন। অন্য দলের হয়ে খেলতে গেলে একমাস পরে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠের বাইরে বের করে দেওয়া হবে। তৃণমূল জিতবে এ নিয়ে কোনো সংশয় নেই। কিন্তু এদলের জার্সি পরে অন্য দলের হয়ে খেলতে গেলে সমস্যায় পড়বেন। আমার সবার উপর নজর আছে। যদি কেউ ভাবেন, বিশৃঙ্খলা করব দলকে চাপে রাখার জন্য, আপনাদের কিন্তু দল ক্ষমা করবে না। আমি সবাইকে ওয়ার্নিং দিয়ে যাচ্ছি। 
এদিন ব্লক সভাপতি ও তাঁর অনুগামীদের উদ্দেশ্যে সভা থেকেই অভিষেক বলেন, আমি হাবিবকে বলেছি, ব্লক যেমন দায়িত্ব নিয়ে হাবিব করত, হাবিবই এখন করবে। এই ১০টা অঞ্চলের দায়িত্ব হাবিবের। যদি কারও কোথাও মনে হয় আমার সঙ্গে প্রার্থীর মনোমালিন্য হয়েছে, তাহলে আপনি ধরে নেবেন নওদা থেকে প্রার্থী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট আমার হয়ে করুন। 
উল্লেখ্য, বেলডাঙা-১ ব্লকের চারটি অঞ্চল এবং নওদা ব্লকের ১০টি অঞ্চল এই নওদা বিধানসভার মধ্যে পড়ে। গত লোকসভা নির্বাচনের প্রতিটি অঞ্চলের ভোটের ফলের বিশ্লেষণ করে মার্জিন বাড়ানোর টার্গেট বেঁধে দিলেন অভিষেক। দল যাকে প্রার্থী করেছে দলের পতাকা নিয়ে জোড়াফুল চিহ্ন নিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে বলে বার্তা দেন তিনি। 
ব্লক সভাপতি বলেন, সাত-সাড়ে সাত হাজার লোক নিয়ে আমি এসেছিলাম। সভামঞ্চ পূরণ করতে গিয়ে বসার জায়গা নিয়ে একটু গন্ডগোল হয়েছে। ভোট যুদ্ধে অবশ্যই তৃণমূলের জয় হবে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আমার ওপর আস্থা রেখেছেন। দলকে জেতানোর জন্য বলেছেন। সে কারণে আমি দলের হয়েই প্রচার করব। 
অন্যদিকে নওদা বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী শাহিনা মমতাজ বলেন, একসঙ্গে চলবে দল। সংসারে যেমন অশান্তি লাগে, সেরকমই বড় দল, যার ফলে ক্ষোভ বিক্ষোভ ছিল। সমস্ত কিছু এক হয়ে গিয়েছে। সবাই এখন থেকে একসঙ্গে লড়বে।
জেলা তৃণমূল সভাপতি অপূর্ববাবু বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যুব সমাজের আইকন। তাঁকে কাছ থেকে দেখার জন্য হুড়োহুড়ি তো পড়বেই। ব্লক সভাপতি প্রচুর লোকজন নিয়ে সভাস্থলে এসেছিলেন। কিন্তু সভা শুরুর সময় আসায় তার কর্মী সমর্থকরা প্রথমদিকে বসার জন্য সামনে ঢুকে পড়েছিল। তা নিয়ে একটু হুড়োহুড়ি হয়েছিল। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই তা মিটিয়ে দেওয়া গিয়েছে। এদিন অভিষেকের সভা দারুণভাবে সফল হয়েছে। 

Advertisement

 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ