মুম্বই ও লখনউ: কোথাও মাথার উপর ছাদ নেই, কোথাও আবার নেই শৌচাগার কিংবা পানীয় জল সুব্যবস্থা। কোনো কোনো স্কুলে শিক্ষকই নেই অথবা থাকলেও তিনি আকণ্ঠ মদ্যপান স্কুলে আসছেন। ককরোচ জনতা পার্টির ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযানের জেরে বিভিন্ন রাজ্যে স্কুল পরিকাঠামোর কঙ্কালসার চেহারা সামনে চলে এসেছে। স্কুলের পরিকাঠামো ঠিক করার দাবি নিয়ে পথে নেমেছে বহু পড়ুয়াও। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির মডেল রাজ্য উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন স্কুলে বহিরাগতদের প্রবেশে জারি হল নিষেধাজ্ঞা। বৃহস্পতিবার অযোধ্যার বেসিক এডুকেশন অফিসার এই মর্মে নির্দেশিকা জারি করেছেন। গত এক সপ্তাহ ধরে একই নির্দেশিকা জারি করেছেন উত্তরপ্রদেশের অন্য একাধিক জেলা প্রশাসনও। এদিন মহারাষ্ট্রে বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শনে যান ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিৎ দিপকে। লাতুরের উজানি গ্রামের জেলা পরিষদ স্কুলে গিয়ে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থাকে তোপ দেগে তিনি বলেন, ‘‘এটা স্কুলের ভবিষ্যতের প্রশ্ন। রাজনৈতিক নেতারা কিছু না করলে, কেন মানুষ তাঁদের ভোট দেবে? জনতা কি হেলিকপ্টারে চড়ে ঘুরে বেড়ানোর জন্য ভোট দেয়? শিশুরা কীভাবে পড়াশোনা করছে তা জানা উচিত। মন্ত্রীদের কুকুরের জীবনও এই পড়ুয়াদের চেয়ে ভালো।’ শুধু তা-ই নয়, বিজেপি জোট শাসিত মহারাষ্ট্রের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছেন দিপকে। এদিন অযোধ্যার স্কুলগুলিতে বহিরাগত ও ইউটিউবারদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারির প্রেক্ষিতে বেসিক এডুকেশন অফিসার বলেন, ‘কিছু মানুষ স্কুলে ঢুকে সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য ভিডিয়ো করছেন। এতে শুধু স্কুলের পড়াশোনার পরিবেশই নষ্ট হচ্ছে না। শিক্ষকদেরও সম্মানহানি হচ্ছে।’ গত ১৭ আগস্ট উত্তরপ্রদেশের বলরামপুরেও জারি হয়েছে একই নির্দেশিকা। সেখানকার আধিকারিক বিকাশ চন্দ্র শ্রীবাস্তবও জানিয়েছেন, স্কুলগুলিতে পড়াশোনার পরিবেশ ঠিক রাখতে ও পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। যোগীরাজ্যের আজমগড়, বালিয়া, বস্তি, শ্যামলী ও আগ্রাতেও জারি রয়েছে একই নির্দেশিকা।



