এই গরমে মুখের সার্বিক যত্ন নিতে কী করবেন? অনেকেই বুঝে উঠতেপারেন না তাঁর ত্বকের জন্য কী উপযুক্ত। রইল পরামর্শ।
এই গরমে মুখের সার্বিক যত্ন নিতে কী করবেন? অনেকেই বুঝে উঠতেপারেন না তাঁর ত্বকের জন্য কী উপযুক্ত। রইল পরামর্শ।
ত্বকের উপযুক্ত যত্নের জন্য ফেসিয়াল করাতেই হয়। কিন্তু সময়াভাবে অনেক কর্মরতারই তা হয়ে ওঠে না। তখন উপায়? বিশেষজ্ঞেরা বলেন, হাতে সময় না থাকলে ত্বকের যত্নে যাতে ফাঁকি না পড়ে তার জন্য আপনার সমাধান হতে পারে ক্লিন আপ। নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার করে দেওয়াই এই প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য। তবে গরমে ফেসিয়াল না ক্লিন আপ, কোনটায় জোর দেবেন বেশি? সেটা ত্বকের অবস্থা বুঝে ঠিক করতে হবে আপনাকেই।
আগে জেনে নেওয়া যাক, কোনটা ফেসিয়াল আর কোনটা ক্লিন আপ। দুটোর মধ্যে তফাতই বা কী?
ফেসিয়াল বলতে একটা সার্বিক স্কিন কেয়ার রুটিনকে বোঝায়। এটি মেনে চললে ত্বকের পুষ্টি হবে যথাযথ। ত্বক থাকবে ঝকঝকে। ক্লেনজিং, এক্সফোলিয়েটিং এবং ময়েশ্চারাইজিং— ফেসিয়ালের মধ্যে সবই পড়ে। সঙ্গে থাকে ফেস মাস্ক, সেরাম এবং ফেসিয়াল মাসাজ। এই লম্বা সময়টা আপনি ত্বকের জন্য ব্যয় করলে ত্বক আপনাকে ফিরিয়ে দেবে উজ্জ্বলতা আর সুস্থতা। ধারাবাহিকভাবে ফেসিয়াল করালে ত্বকের বলিরেখা, ব্রণর দাগছোপ বা ত্বকে থাকা কোনও অন্য স্পট অনেকটাই কমানো যায়।
ফেস ক্লিন আপ-এর ক্ষেত্রে ক্লেনজিং আর এক্সফোলিয়েটিং বেশি গুরুত্ব পায়। ক্লেনজার, টোনার দেওয়ার পরে স্ক্রাব করে মুখের ত্বকের সব ময়লা পরিষ্কার করে দেওয়া হয়। এমনিতে গরমে ত্বক সবসময়েই অতিরিক্ত ঘেমেনেয়ে যায়। এই সময়ে ফেসিয়াল আদৌ কাজে দেবে নাকি ক্লিন আপেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নিজেকে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময় যাই হোক, ফেসিয়াল সবসময় জরুরি। গরমে ঘর্মাক্ত ত্বকে আর্দ্রভাব অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়। তাই গরমে ফেসিয়াল করার সময় নজর দিন আর্দ্রভাব ফিরিয়ে আনার দিকে। আর্দ্রতা রক্ষা করে এমন ফেসিয়ালই বেছে নিন এখন। অ্যালোভেরা, গ্রিন টি বা ফ্রুট ফেসিয়াল উপযোগী। ত্বকের ট্যান কিংবা জ্বালাভাবও দূর হয় এতে। ফেসিয়াল করার সময় যে বিশেষ মাসাজ করা হয় মুখমণ্ডলে, সেটা ক্লিন আপে করা হয় না। ফেসিয়ালে ডিপ মাসাজের গুণে মুখের পেশিও অনেক রিল্যাক্সড হয়। মানসিক চাপে যে ধরনের বলিরেখা তৈরি হয়, এই মাসাজে তা আস্তে আস্তে কমে আসে। বস্তুত ফেসিয়াল শুধু মুখের যত্নের জন্য করা হয়, এমনটা নয়। লম্বা সময় ধরে যাতে একটা আরামদায়ক অনুভূতি শরীর ও মনকে ঘিরে থাকে, সেই চেষ্টাই করা হয় ফেসিয়ালে। গরমে অতিরিক্ত ক্লান্তির প্রভাব পড়ে শরীর-মন দুইয়ের উপরে। সঙ্গে রয়েছে নিত্য কাজের চাপ, সাংসারিক সমস্যা, সন্তানের পড়াশোনা ইত্যাদি। যাদের নিত্য একটা এমন বৃত্তের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় তাদের ফেসিয়াল একটা বড় রিলিফ। মাসে অন্তত একবার ফেসিয়াল করালে ভালো হয়। সময়াভাবে তা না পারলে ক্লিন আপ করান। এতে ত্বকের উপরিভাগে যত তেল, ময়লা, ছোপ ইত্যাদি থাকে, সেটা পরিষ্কার করে দেওয়া যায়। তাই ফেসিয়াল এবং ক্লিন আপ দুটো আলাদা বিষয় ভাববেন না। বরং একটা অন্যের পরিপূরক।
গরমে ফেসিয়ালের আগে কিছু বিষয় মাথায় রাখুন।
যেমন গরমের সময় ত্বকে অনেক ধরনের সংক্রমণ হয়। কারও হয়তো মারাত্মক ব্রণর সমস্যা। কারও স্কিনে র্যাশ। এই অবস্থায় ফেসিয়াল না করানোই শ্রেয়। কোনও কারণে হয়তো কোথাও থেকে বেরিয়ে এসে অতিরিক্ত ট্যান পড়ল। তখনই ফেসিয়াল করতে ছুটলেন। এমনটা করবেন না। কিছুটা সময় দিন ত্বককে। যাতে নিজের মতো করে আপনার চারপাশের আবহাওয়ার সঙ্গে আবার মানিয়ে নিতে পারে ত্বক। তারপর ফেসিয়ালের কথা ভাবুন।
গ্রীষ্ম হোক বা শীত, ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফেসিয়াল বেছে নিন। আপনার বন্ধুর ত্বকে কোনও ফেসিয়াল খুব কার্যকরী হয়েছে মানেই তা আপনার জন্যও উপযুক্ত হবে, এমনটা নাও হতে পারে। প্রয়োজনে স্যালোঁ এক্সপার্টের সঙ্গে আলোচনা করে নিন। এমনিতে শুষ্ক ত্বকে ঘন ক্রিম সমৃদ্ধ হাইড্রেটিং ফেসিয়াল দরকার। তৈলাক্ত ত্বক বা অ্যাকনে বেশি হয় যাঁদের, তাঁদের জন্য অ্যাকনে ট্রিটমেন্ট ফেসিয়াল থাকে। স্পর্শকাতর ত্বকের জন্য খুবই হালকা কোনও ফেসিয়াল বেছে নিন। এমন কোনও ফেসিয়াল যা ত্বকে আরামদায়ক ঠান্ডাভাব এনে দেবে। একটু বয়স্কদের জন্য অর্থাৎ যাদের ত্বক পরিণত, তাদের প্রয়োজন অ্যান্টি এজিং ফেসিয়াল। এই ধরনের ফেসিয়াল কোলাজেন বাড়িয়ে ত্বকের বলিরেখা কমাতে পারে। ফেসিয়ালের পরে অন্তত এক সপ্তাহ ওয়াক্সিং করাবেন না।
ফেসিয়াল যেদিন করাতে চান, খেয়াল রাখুন তার আগে সপ্তাহখানেক সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রকোপ থেকে যতটা দূরে রাখতে পারেন নিজেকে। জিমে ওয়ার্কআউট করার থাকলে ফেসিয়ালের অন্তত দু’তিন ঘণ্টা আগে সেসব সেরে রাখুন। কারণ এক্সারসাইজ করলে শরীরের ভিতরের তাপমাত্রা অনেকটা বেড়ে যায়। তার পরপরই ফেসিয়াল করতে গেলে ত্বকে প্রতিক্রিয়া হতে পারে। ফেসিয়াল করার পর একটা দিন এক্সারসাইজ থেকে দূরে থাকুন। প্রচণ্ড ঘাম হলে ত্বকে ইরিটেশন হতে পারে।
অন্বেষা দত্ত