নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরই সঙ্গী হয়ে উঠছে মোবাইল। রাতে চোখ ঘুম না আসা পর্যন্ত স্ক্রলিং চলছে। তাতেই বিপদ বাড়ছে। সম্প্রতি বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞরা দেখেছেন অনেকেই চোখে অ্যালার্জি জাতীয় সমস্যা নিয়ে আসছে। চোখ কড় কড় করছে। চোখ কচলালে তা লাল হয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসকদের দাবি, এসবের পিছনে রয়েছে মোবাইল স্ক্রিন। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ তথা চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ মৌসুমি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দিনে ৬-৮ ঘণ্টা স্ক্রিনে চোখ রাখলে ‘ড্রাই আই’ এ আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। ওই সময় পর্যন্ত যাঁরা স্ক্রলিং করছেন তাঁদের ৫০ শতাংশর ‘ড্রাই আই’ উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। বাচ্চাদের ক্ষেত্রেও চোখে নানা সমস্যা হচ্ছে। তাদের ক্ষেত্রে পাওয়ার বেড়ে যাচ্ছে। মোবাইল স্ক্রিনে দীর্ঘক্ষণ চোখ রাখলে আরও নানা সমস্যা হয়। অনেকেই খাওয়ার সময় বা ঘুমানোর আগে শিশুদের মোবাইল ধরিয়ে দেয়। সেটা কখনই করা উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, যত দিন যাচ্ছে তত এধরনের রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। অনেকে নিজের ইচ্ছেতেই চোখে ড্রপ নেন। তাতে আরও বেশি বিপদ হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়েই ওষুধ নিতে হবে। কাজের বাইরে অনেকেই এখন মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়ছে।
হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বিগত তিন বছর ধরে এধরনের সমস্যা বেড়েছে। ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সের ছেলে বা মেয়েদের ক্ষেত্রে এধরনের সমস্যা বেশি হচ্ছে। তবে, ৫০ থেকে ৫৮ বছর বয়সেরও অনেকের এই উপসর্গ দেখা গিয়েছে।
বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দিব্যেন্দু সাহা বলেন, অনেকে সারা দিনই সোশ্যাল মিডিয়ায় ডুব দিয়ে থাকছেন। বিভিন্ন ধরনের রিলসের প্রতি তাদের আকর্ষণ রয়েছে। পড়ুয়াদের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা রয়েছে। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে এসেছিলেন রিজা শর্মা। তিনি বলেন, পাঁচ মাস ধরে হঠাৎ করেই চোখ কচলাতে শুরু করি। দু’জন ডাক্তার দেখিয়েছি। তাঁরা আলাদা আলাদা ড্রপ দিয়েছেন। তাতে কাজ হয়নি। চোখ কচলানোর সময় লাল হয়ে যাচ্ছে। মোবাইলের স্ক্রিনে চোখ রাখা নেশার মতো হয়ে গিয়েছে। ফাঁকা সময় থাকলেই মোবাইলে বিভিন্ন বিষয় স্ক্রলিং করে দেখি। প্রথম দিকে ভেবেছিলাম চোখে ঠাণ্ডা লাগার জন্য এই সমস্যা হয়েছে। পরে জানতে পারি মোবাইলের জন্যই এধরনের সমস্যা হচ্ছে। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ বলেন, মোবাইল ছাড়া এখন থাকা যাবে না। তবে সেটির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। অতিরিক্ত সময় মোবাইল স্ক্রলিং করলে ‘ড্রাই আই’ এ আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা বেশি। এধরনের উপসর্গ দেখা গেলে বেশ কিছুদিন ভুগতে হবে। শিশুদের থেকে মোবাইল যতটা দূরে রাখা যায় ততই মঙ্গল। মোবাইল ব্যবহার কারও যাতে নেশায় পরিণত না হয় তা দেখতে হবে।