ঢাকা: ফের হিন্দু নির্যাতনের সাক্ষী থাকল বাংলাদেশ। এবার ঘটনাস্থল যশোর জেলার অভয়নগর। বৃহস্পতিবার রাতে সেখানকার ডহর মশিয়াহাটি গ্রামে ২০টির বেশি হিন্দু পরিবারের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় মৌলবাদীরা। তার আগে চলে লুটপাট। এছাড়া চারটি দোকানে ভাঙচুর ও অন্য দুটি দোকান পুড়িয়ে দেয় হামলাকারীরা। হামলায় দশজনের বেশি আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা একজনকে তুলেও নিয়ে যায়, পরে তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির দাবি, আগুন লাগিয়ে দেওয়ার পর দমকলে খবর দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মৌলবাদীরা দমকলকর্মীদেরও বাধা দেয়। ফলে সম্পূর্ণ পুড়ে যায় বাড়িগুলি। ঘটনার দু’ঘণ্টা পর পুলিস ও সেনা ওই গ্রামে গিয়ে পৌঁছায়। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকেই গ্রেপ্তার করা যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মাছ চাষের জন্য পুকুরের মালিকানা নিয়ে স্থানীয় কৃষক দল নেতা তারিকুল ইসলামের সঙ্গে পিল্টু বিশ্বাসের গণ্ডগোল চলছিল। সম্প্রতি তারিকুলকে গুলি করে ও কুপিয়ে খুন করা হয়। এই ঘটনায় পিল্টুর হাত রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এরপরই মৌলবাদীরা দল বেঁধে ডহর মশিয়াহাটি গ্রামের সব হিন্দু পরিবারের উপরে হামলা চালায়। ওই দলে অন্তত ১৫০ জন ছিল।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানিয়েছেন, বাড়ি সহ সমস্ত কিছু পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। কার্যত খোলা আকাশের নীচে দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা। পান্না বিশ্বাস নামে এক মহিলা জানান, বাড়িতে টিভি, ফ্রিজ, গয়না, পাসপোর্ট, দেড় লক্ষ নগদ টাকা ছিল। এর সব কিছুই হয় লুট হয়েছে, নাহলে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আর এক ক্ষতিগ্রস্ত স্মৃতি বিশ্বাস বলেন, ‘প্রথমে একদল লোক বাড়িতে ঢুকে সোনা ও টাকা ছিনিয়ে নেয়। তারপর আমাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। তারপর বাড়িতে আগুন দিয়ে চলে যায় ওরা।’ আতঙ্কের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সব পুরুষ সদস্যরা গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছেন।