নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ‘লোকাল গ্যাস অফিস থেকে বলছি। গ্যাস বুকিংয়ের ভর্তুকির টাকা কি ফেরত চান? আপনি চল্লিশ হাজার টাকার মতো পাবেন।’ রান্নার গ্যাস এলপিজি গ্রাহকের কাছে এল এই ফোন। এইটুকু শুনে গ্রাহক উৎসাহিত। ‘হ্যাঁ, ফেরত পেতে চাই’-উত্তর দিলেন। এরপর ফোনের ও প্রান্তে থাকা মহিলা বললেন, ‘৪০ হাজার পেতে আপনাকে দিতে হবে ১০ হাজার।’ টোপ গিললেন গ্রাহক। তারপর সেই নম্বর থেকে এল একটি কিউআরকোড। গ্রাহক সেটি স্ক্যান করে ১০ হাজার দিলেন পাঠিয়ে। তারপর আর চিহ্ন নেই মহিলার। মোবাইল বন্ধ। গ্রাহক বুঝলেন ১০ হাজার খোয়া গিয়েছে। সম্প্রতি হাওড়ায় এরকম একটি জালিয়াতি চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তাদের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে হাজার হাজার টাকা খোয়াচ্ছেন একাধিক ব্যক্তি।
এতদিন ব্যাঙ্ক ম্যানেজার পরিচয়ে, শেয়ারে মোটা রিটার্নের টোপ দিয়ে, মোবাইল টাওয়ার বসানোর নামে, এলআইসি’র বকেয়া দেওয়া ইত্যাদি বহু উপায়ে জালিয়াতি চালিয়েছে প্রতারকরা। এবার তালিকায় নয়া সংযোজন, গ্যাসের ভর্তুকি। হাওড়া সিটি পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, ‘হাওড়া কমিশনারেট এলাকার মধ্যে সবথেকে বেশি প্রতারণার ঘটনা ঘটছে ডোমজুড় ও সাঁকরাইলে। প্রতারকদের ধরতে তদন্ত শুরু হয়েছে।’ পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ১০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। গ্যাস কোম্পানির ডিস্ট্রিবিউটরদের অধীনে থাকা গ্রাহকদের ফোন নম্বর সহ যাবতীয় তথ্য হাতে পেয়ে যাচ্ছে প্রতারক চক্রটি। তারপর সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নাম করে ফোন করে ফাঁদে ফেলছে মানুষকে।
পুলিস জানিয়েছে, অচেনা মোবাইল নম্বর থেকে ফোন আসছে। সংশ্লিষ্ট গ্যাস কোম্পানির লোকাল ডিস্ট্রিবিউটরের নাম করে কোনও মহিলা জানতে চাইছেন, ‘চলতি মাসের গ্যাস বুকিং হয়ে গিয়েছে কি না?’ তারপর গ্যাসের টাকা পেমেন্ট হয়েছে কি না বা ডেলিভারি সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য জানতে চাইছে। এরপর দিচ্ছে ভর্তুকির অতিরিক্ত টাকা ফেরতের টোপ। বলছে, ‘৪০ হাজার টাকা জমে আছে আপনার অ্যাকাউন্টে। পুরোপুরি ৫০ হাজার না জমা হলে সে টাকা আপনি ফেরত পাবেন না। আমরা কিউআরকোড পাঠাচ্ছি। আপনি সেটি স্ক্যান করে ১০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দিন। সঙ্গে সঙ্গে আপনার অ্যাকাউন্টে ৫০ হাজার ক্রেডিট হয়ে যাবে।’ প্রতারকদের এই ফাঁদে পা দিয়ে টাকা খোয়াচ্ছেন বহু গ্রাহক। তারপর টাকা ফেরত না পেয়ে গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। এবং বুঝছেন প্রতারকদের খপ্পরে পড়ে টাকা খুইয়েছেন। এই চক্রের কবলে না পড়ার জন্য লাগাতার শহরবাসীকে সচেতন করার কাজ করছে হাওড়া সিটি পুলিস। গ্যাস কোম্পানিগুলিকে মাইকিং করে সচেতনতা প্রচারের নির্দেশ দিয়েছে। এরপরও প্রতারিত হলে সঙ্গে সঙ্গে সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ জানাতে নাগরিকদের আবেদন করতে বলেছে পুলিস।