সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: দীর্ঘদিনের বেহাল দশা কাটিয়ে ফের সচল হতে চলেছে ফুলবাড়ি-ঘোষপুকুর বাইপাস। বৃহস্পতিবার ফুলবাড়িতে আনুষ্ঠানিকভাবে রাস্তা সংস্কারের কাজের সূচনা করার পাশাপাশি খুলে দেওয়া হল টোলগেট। আর সেই মঞ্চ থেকেই ফুলবাড়িতে টোল আদায়ের নামে কোনোরকম তোলাবাজি বরদাস্ত করা হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী তথা শিলিগুড়ির বিধায়ক শংকর ঘোষ। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই টোলগেট অবৈধ নয়, এটি সরকারের বিধিবদ্ধ ব্যবস্থার অংশ। মন্ত্রীর এই ঘোষণাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।
রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরই স্থানীয় নেতৃত্বকে সঙ্গে নিয়ে বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়ের উদ্যোগে ওই টোলগেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। টোল আদায়ের নামে অনৈতিকভাবে জুলুমবাজির অভিযোগ উঠেছিল। পাশাপাশি টোলগেটের বৈধতা নিয়েও বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন তোলা হয়। সেই বিতর্কের মধ্যেই এদিন টোলগেট ফের চালু করে মন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্দিষ্ট বিধি মেনেই এই টোল আদায় হবে। তাঁর বক্তব্য, উন্নয়নমূলক কাজে সরকারের নিজস্ব তহবিলের জন্য আয়ের ব্যবস্থাও প্রয়োজন। প্রতিটি ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সরকারি তহবিলের উপর নির্ভর করলে উন্নয়নের ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন।
তবে বৈধ টোল আদায়ের আড়ালে কেউ তোলা বা জুলুমবাজি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন শংকর ঘোষ। পুলিশ প্রশাসনকে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করার কথাও জানান তিনি। তাঁর কথায়, বৈধভাবে সরকারের আয় হবে। কিন্তু সেই আয়ের নাম করে কেউ যদি অনৈতিকভাবে টাকা আদায় বা তোলাবাজি করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এলাকার বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়ও। একই অনুষ্ঠানে ফুলবাড়ি-ঘোষপুকুর বাইপাসের সংস্কারের জন্য প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজের শিলান্যাস করেন পর্যটনমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিনের দাবির পর এলজিইডি-র নিজস্ব তহবিল থেকে এই অর্থ বরাদ্দ করে কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। পুজোর পর থেকেই পাকাপাকিভাবে স্থায়ী সংস্কারের কাজ শুরু হবে। তবে তার আগেই যান চলাচলের উপযোগী করে রাস্তা তৈরির কাজ চলবে।
বাইপাসটি ফের চালু হলে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচলে সুবিধা হবে বলে প্রশাসনের আশা। রাস্তার বেহাল দশার কারণে এতদিন বহু পণ্যবাহী গাড়ি এই পথ এড়িয়ে এশিয়ান হাইওয়ে-২ দিয়ে ঘুরপথে চলাচল করছিল। ফলে ওই সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ছিল। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় যানবাহনের চাপ এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছিল। বাইপাস সংস্কার ও পুনরায় চালু হলে এই পরিস্থিতির অনেকটাই পরিবর্তন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।