Bartaman Logo
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মধ্যমগ্রামে বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ, তদন্ত শুরু

ক্ষমতায় আসার পর ‘তোলাবাজি’ ও ‘সিন্ডিকেট রাজ’-এর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কথা বারবার বলেছেন বিজেপির শীর্ষ নেতারা।

মধ্যমগ্রামে বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ, তদন্ত শুরু
  • ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ক্ষমতায় আসার পর ‘তোলাবাজি’ ও ‘সিন্ডিকেট রাজ’-এর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কথা বারবার বলেছেন বিজেপির শীর্ষ নেতারা। কিন্তু দলেরই একাংশ উলটোপথে হাঁটছে বলে অভিযোগ। নেতা-কর্মীদের ওই অংশ প্রকাশ্যেই তোলাবাজিতে জড়িয়েছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে আঙুল উঠেছে। সম্প্রতি বাড়ি তৈরির কাজে এক গৃহবধূকে ‘বাধা’ দিয়ে এক লক্ষ টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বারাসত সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি রাজীব খানের বিরুদ্ধে। এখানেই শেষ নয়। অভিযোগ, টাকা না দিলে নির্মীয়মাণ বাড়ির অংশ ভেঙে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার মধ্যমগ্রাম থানায় এ নিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন গৃহবধূ সাবিরা খাতুন। তার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। বারাসত পুলিশ জেলার সুপার জে মার্সি বলেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগকারী সাবিরার বাড়ি মধ্যমগ্রাম পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে। স্বামী আকবর আলি দিল্লিতে একটি ক্যুরিয়ার সংস্থায় কাজ করেন। স্থানীয় বিজেপি কর্মী সফিকুল ইসলাম ওরফে বাবুর বাড়িতে ভাড়ায় থাকতেন সাবিরা। সাবিরার দাবি, মাথা গোঁজার জন্য তাঁর খুড়তুতো ভাইরা জমির একটি অংশ তাঁকে দেন। সেখানেই বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেন তিনি। অভিযোগ, গত ২১ সেপ্টেম্বর স্থানীয় বিজেপি কর্মী ফারুক আহমেদ এসে বলেন, বেআইনিভাবে বাড়ি তৈরি হচ্ছে। পরের দিন সফিকুল বলেন, নির্মাণকাজ চালাতে হলে বিজেপির বারাসত সাংগঠনিক জেলার নেতা রাজীব খানকে এক লক্ষ টাকা দিতে হবে। সাবিরার অভিযোগ, টাকা না দিলে বাড়ির যে অংশ তৈরি হয়ে গিয়েছে, তা ভেঙে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। বলা হয়, রাজীবকে টাকা দিলে আর কোনো সমস্যা হবে না।

Advertisement

সাবিরার বক্তব্য, আমরা গরিব মানুষ। ধার করে বাড়ি করছি। বাড়ি নির্মাণের জন্য বিজেপির জেলা সহ সভাপতি রাজীব খানকে টাকা না দিলে নির্মীয়মাণ অংশ ভাঙার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ভয়ে আমি বাড়ি ছেড়ে মায়ের কাছে চলে এসেছি। রাজীব খানের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। এই অভিযোগ অস্বীকার করে রাজীব খান বলেছেন, আমার নাম করে কে, কোথায় টাকা চেয়েছে, তা আমি জানব কী করে? এত বড়ো একটা দল। বাবু বলে কাউকে আমি চিনি না। আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত চলছে। দলের স্থানীয় শক্তিকেন্দ্রের প্রমুখ সুমন দেবনাথ বলেছেন, দলের কেউ কেউ তোলাবাজি করছে, এমন অভিযোগ আমাদের কাছেও এসেছে। কয়েকটি ঘটনাকে সামনে রেখে বিজেপিকে নিশানা করেছে বিরোধীরা। সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আহমেদ খানের দাবি, পালাবদলের কয়েক মাসের মধ্যেই বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে তোলাবাজির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ যখন হয়েছে পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে হবে। জেলা কংগ্রেসের নেতা বিশাল সরকার বলেন, পুলিশের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা উচিত। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ