Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আবার তোলাবাজি হাওড়া ব্রিজে, সাসপেন্ড ২ পুলিস

এক মাসও কাটেনি! ফের তোলাবাজিতে অভিযুক্ত পুলিস। ঘটনাস্থলও অপরিবর্তিত। রাতের বেলা হাওড়া ব্রিজে নাকা তল্লাশি চলাকালীন পণ্যবাহী গাড়ি থামিয়ে তোলা নেওয়ার অভিযোগ উঠল উর্দিধারীদের বিরুদ্ধে।

আবার তোলাবাজি হাওড়া ব্রিজে, সাসপেন্ড ২ পুলিস
  • ২ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এক মাসও কাটেনি! ফের তোলাবাজিতে অভিযুক্ত পুলিস। ঘটনাস্থলও অপরিবর্তিত। রাতের বেলা হাওড়া ব্রিজে নাকা তল্লাশি চলাকালীন পণ্যবাহী গাড়ি থামিয়ে তোলা নেওয়ার অভিযোগ উঠল উর্দিধারীদের বিরুদ্ধে। ১০ টাকা করে তোলা নেওয়ার সেই দৃশ্য  নিজের চোখে দেখেন কলকাতা পুলিসের এক পদস্থ আধিকারিক। এরপরেই কর্তব্যরত এক অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইনসপেক্টর ও কনস্টেবলকে সাসপেন্ড করেছে লালবাজার। সেই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

Advertisement

৯ জুন ভোররাতের ঘটনা। পিসিআর ভ্যান নিয়ে হাওড়া ব্রিজে দায়িত্বে ছিলেন উত্তর বন্দর থানার দুই পুলিসকর্মী। একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইনসপেক্টর ও একজন কনস্টেবল। সব্জি বোঝাই একটি গাড়িকে আটকান কনস্টেবল। চালকের থেকে চাওয়া হয় ২০ টাকা। তিনি ১০ টাকা দিতে চাইলে বাকি ১০ টাকার জন্য কনস্টেবল গাড়িটি আটকে রাখেন। ওই গাড়ির খালাসি গোটা ঘটনার ভিডিও তুলতে শুরু করেন মোবাইলে। দু’পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়ে যায়। এরপর ভিডিওটি গাড়ির খালাসি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে দেন। মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায় সেই ভিডিও। বিষয়টি নজরে আসে লালবাজারের উচ্চপদস্থ কর্তাদের। বিভাগীয় তদন্তের পর অভিযুক্ত এএসআই অরূপ কর্মকার ও কনস্টেবল রাজীব চট্টোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করা হয়। 
লালবাজার জানিয়েছে, ওই ঘটনার পর ঠিক হয়, মাঝেমধ্যেই হাওড়া ব্রিজের উপর ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’ করা হবে। সেই মতো গত শুক্রবার রাতে পুলিসকর্মীদের উপর নজরদারির জন্য রাস্তায় বেরয় বিশেষ টিম। তাতেই তোলাবাজির ছবি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সামনে আসে। সূত্রের দাবি, মধ্যরাতে অভিযান চালানো হয়। দেখা যায়, ব্রিজের হাওড়াগামী ফ্ল্যাঙ্কে একটি পিসিআর ভ্যান দাঁড় করানো রয়েছে। ভিতরে বসে রয়েছেন একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইনসপেক্টর। আর গাড়ির চালক তথা কনস্টেবল পদমর্যাদার এক কর্মী ব্রিজের উপর দাঁড়িয়ে। সঙ্গী সিভিক ভলান্টিয়ার একের পর এক পণ্যবাহী গাড়ি আটকাচ্ছেন আর ১০ টাকা করে তোলা তুলছেন। নিজের চোখে সেই দৃশ্য দেখে ছবি তোলেন পুলিসকর্তারা। উত্তর বন্দর থানার ওই দুই পুলিসকর্মী ও সিভিক ভলান্টিয়ারকে পরের দিন অর্থাৎ, শনিবার ডেপুটি কমিশনার (বন্দর) হরিকৃষ্ণ পাইয়ের অফিসে ডেকে পাঠানো হয়। বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয় তাঁদের বিরুদ্ধে। সেদিন সকালেই সিভিক ভলান্টিয়ারকে কাজ থেকে সরিয়ে (ডি-মবিলাইজ) দেওয়া হয়। বিভাগীয় তদন্তের পর লালবাজারের যুগ্ম কমিশনার (সদর) মিরাজ খালিদের নির্দেশে উত্তর বন্দর থানার এএসআই ও কনস্টেবলকে চাকরি থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। সাসপেনশনের সেই চিঠি ওই এএসআই ও কনস্টেবলের কাছে পৌঁছে গিয়েছে বলে লালবাজার সূত্রে খবর।
পণ্যবাহী গাড়ির চালকদের বক্তব্য, হাওড়া ব্রিজে পেরতে গেলে ‘পুলিস-টোল’ দিতে হয় সবাইকে। গাড়ির সাইজ অনুযায়ী, ১০ টাকা, ২০ টাকা ও ৫০ টাকা পর্যন্ত ‘রেট’ রয়েছে। তাহলে কি নিচুতলার পুলিসকর্মীদের উপর টাকা তোলার কোনও চাপ থাকে? সেই প্রশ্নই উঁকি দিচ্ছে জনমানসে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ