সংবাদদাতা, বারুইপুর: বাড়িতে বোমা বাঁধতে গিয়ে জখম হল এক দম্পতি সহ তিনজন। মঙ্গলবার দুপুরে বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটেছে জয়নগরের বকুলতলা থানার হানাবাটি শেখপাড়ায়। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, গৃহকর্তা কালাম শেখ ও তার আত্মীয় বাপি শেখ জখম হলেও পুলিস যাওয়ার আগেই তারা গা-ঢাকা দিয়েছে। তবে গৃহবধূ মনসুরা বেগমকে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিস। তাকে জয়নগরের নিমপীঠ রামকৃষ্ণ গ্রামীণ হাসপাতালে প্রথমে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ওই মহিলাকে এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। পলাতক দু’জনের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিস। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই বাড়িতে বোমা বাঁধার কাজ চলছিল। সেই সময় বোমা ফেটে যাওয়ায় এই বিপত্তি। কী কারণে এবং কেন বোমা বাঁধা হচ্ছিল, পুলিস তা তদন্ত করে দেখছে। পুলিস ওই বাড়ি থেকে বোমা তৈরির বেশ কিছু মশলা উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এদিন বেলা পৌঁনে ১টা নাগাদ প্রচণ্ড বিস্ফোরণে গড়দেওয়ানি পঞ্চায়েতের হানাবাটি শেখপাড়া কেঁপে ওঠে। এলাকার বাসিন্দারা প্রথমে ভেবেছিলেন, হয়তো রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার ফেটেছে। গ্রামবাসীরা সঙ্গে সঙ্গে খবর দেন থানায়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। পুলিস দ্রুত ঘটনাস্থলে এলেও জখম কালাম শেখ ও বাপি শেখের সন্ধান পায়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, কালাম শেখ থাকে অ্যাসবেস্টস ছাউনি দেওয়া দরমার বাড়িতে। সেখানে বসে দীর্ঘদিন ধরেই বোমা বাঁধার কাজ হয়। কালাম টোটো চালানোর পাশাপাশি বোমাও বাঁধে। বিভিন্ন সময় বোমা তৈরির অর্ডার আসে তার কাছে। তারই আত্মীয় বাপি শেখ এই কাজে সহযোগিতা করে। পুলিসকে আমরা বোমা তৈরির ব্যাপারে বারেবারে জানালেও তারা কোনও পদক্ষেপ করেনি। বাসিন্দাদের কথায়, অভিযুক্তরা সকলেই শাসকদলের লোক। তারা জয়নগরের সাংসদের অনুগামী। যদিও এই ব্যাপারে সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল বলেন, দুষ্কৃতীদের কোনও দল হয় না। ওই তিনজন তৃণমূলের কেউ নয়। মিথ্যা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। নিজস্ব চিত্র



