নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: রবিবার ভরসন্ধ্যায় রহড়ার বন্দিপুর এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটল এক গৃহস্থের বাড়িতে। বিকট আওয়াজ। সঙ্গে সঙ্গে ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত বারাকপুর কমিশনারেটের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে যান। ওই ঘরের ভাড়াটিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় হতাহতের কোনও খবর নেই। ওই ঘর থেকে পুলিশ বেশ কিছু বাজি বাজেয়াপ্ত করেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জেনেছে, বাজি তৈরির জন্য ওই ঘরে প্রচুর বারুদ মজুত করা ছিল। সম্ভবত তা থেকেই এই ঘটনা ঘটতে পারে। তবে আদৌ বাজি তৈরি, নাকি বোমা তৈরির জন্য বারুদ মজুত করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনাস্থলের নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি ফরেন্সিক তদন্ত করানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বন্দিপুরে ঠাকুর কলোনিতে বাড়ি লক্ষ্মী দেবনাথের। বছর চারেক হল তাঁর বাড়িতেই স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে ভাড়া থাকেন অভিজিৎ সিং। এদিন সন্ধ্যায় তাঁর ঘর থেকে বিকট শব্দ শুনতে পান স্থানীয়রা। গোটা এলাকা ধোঁয়ায় ভরে যায়। স্থানীয়রা এসে দেখেন, ঘরের মধ্যে টিভি ভেঙে পড়ে রয়েছে, বিভিন্ন সামগ্রী লণ্ডভণ্ড, এমনকি টিনের ছাউনিও ফুটো হয়ে গিয়েছে। তবে বিস্ফোরণের সময় ওই ঘরে কেউ না থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এই ঘটনার কয়েক ঘন্টা আগে এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় রহড়া থানার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।
যাঁর ঘরে বিস্ফোরণ, সেই অভিজিৎ সিং বলেন, কালীপুজোর সময় তুবড়ি বানিয়েছিলাম। বেঁচে যাওয়া বাজির মশলা ঘরেই রাখা ছিল। ওই মশলা টিটাগড় থেকে এনেছিলাম। ঘটনার সময় আমি, স্ত্রী ও সন্তান পাশের ঘরে শুয়েছিলাম। হঠাৎ বিকট আওয়াজ পেয়ে দেখি ঘর ধোঁয়ায় ভরে গিয়েছে। টিভি ভেঙে গিয়েছে। এমন ঘটনা ঘটবে, ভাবিনি। বাড়ির মালিক লক্ষ্মী দেবনাথ বলেন, আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ বিকট শব্দ শুনে বাইরে এসে দেখি ভাড়াটিয়ার ঘর থেকে ধোঁয়া বেরচ্ছে। কীভাবে হল, কিছুই বুঝতে পারছি না। শুনেছি, ওই অভিজিৎ ঝালাইয়ের কাজ করে। ঘরে বাজি বানাত, নাকি অন্য কিছু করত, তা জানতাম না।
ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে এসিপি তনয় চট্টোপাধ্যায় বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, বারুদ থেকেই বিস্ফোরণ ঘটেছে। কেউ হতাহত হয়নি। নমুনা সংগ্রহ করে ফরেন্সিকে পাঠানো হবে। সেই রিপোর্ট পাওয়ার পরই সঠিক কারণ জানা যাবে। বাড়িতে বাজি তৈরি করত বলে অভিযুক্ত জানিয়েছে। ওই বক্তব্য যাচাই করা হচ্ছে।