Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তেলেঙ্গানার কারখানায় বিস্ফোরণ, নিখোঁজ দাসপুরের তিন শ্রমিক

তেলেঙ্গানায় একটি রাসায়নিক কারখানায় কাজ করতেন দাসপুরের কয়েকজন যুবক। সোমবার সেই কারখানার চুল্লিতে বিস্ফোরণ হয়। ঘটনায় নিহত ও জখম হয়েছেন বহু শ্রমিক।

তেলেঙ্গানার কারখানায় বিস্ফোরণ, নিখোঁজ দাসপুরের তিন শ্রমিক
  • ২ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঘাটাল: তেলেঙ্গানায় একটি রাসায়নিক কারখানায় কাজ করতেন দাসপুরের কয়েকজন যুবক। সোমবার সেই কারখানার চুল্লিতে বিস্ফোরণ হয়। ঘটনায় নিহত ও জখম হয়েছেন বহু শ্রমিক। গুরুতর জখমদের মধ্যে রয়েছেন দাসপুর থানার হরিরাজপুরের একজন। ওই গ্রামেরই আরও দুই শ্রমিকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। মঙ্গলবার সকালে খবর পেয়েই দাসপুর-১ বিডিও দীপঙ্কর বিশ্বাস হরিরাজপুরে গিয়ে ওই শ্রমিকদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। বিডিও বলেন, শ্রমিকদের পরিবারের কাছ থেকে জানতে পারলাম, দু’জন শ্রমিকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। আমি বিষয়টি মহকুমা শাসক ও জেলাশাসকের নজরে এনেছি। জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

Advertisement

হায়দরাবাদের সঙ্গারেড্ডি জেলার পাশামাইলারামে ওই রাসায়নিক কারখানাটি রয়েছে। ওই কারখানায় বিভিন্ন ধরনের রাসায়ানিক পাউডার তৈরি হয়। হরিরাজপুরের বাসিন্দা রাজীব টুডু প্রথমে ওই কারখানায় শ্রমিক হিসেবে যোগদান করেন। রাজীব বলেন, কারখানায় দুটি শিফ্টে কাজ হয়। মাইনেও ভালো হওয়ায় আমি আমাদের গ্রামের আরও তিনজনকে কয়েক মাস আগে ওই কারখানায় কাজ করাতে নিয়ে যাই। কারখানা থেকে মিনিট দশের হাঁটা দূরত্বে তাঁরা চারজন থাকেন।
রবিবার সন্ধ্যায় রাজীব নাইট শিফ্টে কাজে গিয়েছিলেন। সোমবার সকাল ৮টায় ডে শিফ্টে কাজে যোগ দেন হরিরাজপুরের অসীম টুডু, শ্যামসুন্দর টুডু এবং তারাপদ টুডু। রাজীব বলেন, বাসায় গিয়ে সবে রান্না বসিয়েছি তখনই ফোন পাই কারখানায় বিস্ফোরণ হয়েছে। গিয়ে দেখি একটি বিল্ডিং ভেঙে পড়েছে। ওই কারখানায় এক একটি শিফ্টে  শতাধিক কর্মী কাজ করতেন। বিস্ফোরণের পর কারখানার ভেতর থেকে পুলিস কাতারে কাতারে মৃতদেহ এবং জখমদের বের করছে। জখমদের ওই শহরের পাঁচ-ছ’টি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাজীব বলেন, আমি প্রত্যেকটি হাসপাতাল তন্ন তন্ন করে খুঁজেও মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত আমার পরিচিত বাকি তিনজনের খোঁজ পাইনি। সরকারি ভাবে মৃত এবং জখমদের যে তালিকা প্রকাশিত হয়েছে সেখানও অসীম, শ্যামসুন্দর এবং তারাপদর নাম নেই। এরপরই তিনি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনের শরণাপন্ন হন বলে জানা গিয়েছে।
বিডিও বলেন, প্রত্যেকটি পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। মহকুমা প্রশাসনের আশা, রাজ্যস্তর থেকে তেলেঙ্গানা প্রশাসনের সঙ্গে যোগযাযোগ করা হবে। এদিকে হরিরাজপুরে এক বাসিন্দা অনিল টুডু বলেন, আমাদের এখান থেকেও কয়েকজনকে হায়দরাবাদের উদ্দেশ্যে পাঠানো হবে। এখনও দুজনের খোঁজ না মেলায় তাঁদের পরিবারের সদস্যরা শোকে ভেঙে পড়েছেন।  -নিজস্ব চিত্র  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ