সংবাদদাতা, বারুইপুর: লোকবসতি থেকে দূরে। ধানখেত সংলগ্ন বাগানের মধ্যে চলছিল বাজি কারখানা। অকস্মাৎ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠল গোটা এলাকা। একের পর এক ড্রাম বিকট আওয়াজে ফাটতে থাকে। আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায় গোটা কারখানা। ঝলসে যায় আশপাশে থাকা গাছ। বিস্ফোরণে গুরুতরভাবে জখম হন দু’জন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কারখানার মালিকের স্ত্রী ৫২ বছরের পদ্মরানি নস্কর ও কারখানার কর্মী আব্বাস গাজি। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের নার্সিংহোমে নিয়ে যান।
কারখানা মালিক বাপি নস্কর সহ অন্যদের খোঁজ পাওয়া যায়নি। এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, ৫ জন বাজি তৈরি করছিলেন কারখানায়। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ বিস্ফোরণ ঘটে চম্পাহাটি পঞ্চায়েতের পিয়ালী খোলাঘাটায়। বারুইপুর থেকে দমকলের একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে যায়। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। খবর পেয়ে এলাকায় যান বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাসসহ থানার আই সি শান্তনু মিত্রের নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী। অতীশ বিশ্বাস বলেন, দুজন আহত হয়েছেন। মহিলার আঘাত গুরুতর। শুক্রবার বাজি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে। পুলিশ বেআইনি বাজির বিরুদ্ধে অভিযান চালাবে।
কারখানার মালিক বাপি নস্কর হাড়ালের বাসিন্দা। লোক চক্ষুর আড়ালে জনবসতি থেকে দূরে নির্জন বাগানের মধ্যে কারখানা চালাতেন তিনি। অ্যাসবেস্টস আর টিনের ছাউনি দেওয়া কারখানা। এলাকার বাসিন্দারা জানত, বাপির মাছের ব্যবসা চলে সেখানে। এদিন বিস্ফোরণের শব্দে এলাকা কেঁপে উঠলে আতঙ্ক তৈরি হয়। বাসিন্দারা অনুমান করেন, বাজ পড়েছে। কিছুক্ষণ পর তাঁরা বাইরে এসে দেখেন, দূরে বাগানের ভিতরে প্রাণ বাঁচাতে কেউ ছোটাছুটি করছে। এলাকা কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে। কলা, করমচা বাগানের মধ্যে এত নির্জন জায়গায় কারখানা বেছে নিয়েছিল বাপি। যাতে লোকজন বুঝতে না পারে, কী চলছে বাগানে। বিস্ফোরণ স্থলে গিয়ে দেখা যায়, ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে শেল বাজির খোলস, তুবড়ি, বোমার দড়ি। বাগানে ছোটো একটা ঘরে মিলেছে বস্তা ভরতি বারুদ। এলাকার বাসিন্দারা জল পেরিয়ে জড়ো হয়ে যান এলাকায়। তাঁরা বলেন, প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কারখানায় কাজ চলত। এদিন বাপি, ছেলে, স্ত্রী সহ দুইজন কর্মী কারখানায় কাজ করছিল। বাপি এলাকায় বলত, মাছের ব্যবসা চলছে। এইভাবে বেআইনি বাজির কারবার চলছিল জানতাম না। আমরা এখানে বেআইনি বাজির কারবার বন্ধ করতে চাই। কীভাবে লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে পুলিশ প্রশাসনের নজর এড়িয়ে বাপি এই কারবার চালাত তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিজস্ব চিত্র