দুবাই: স্পিন ক্ষেপণাস্ত্রেই সার্জিকাল স্ট্রাইক! এশিয়া কাপে রবিবার পাকিস্তানকে স্পিনের ভেল্কিতে রীতিমতো নাচিয়ে ছাড়ল ভারত। কুলদীপ যাদব, অক্ষর প্যাটেল এবং বরুণ চক্রবর্তী— থ্রি মাস্কেটিয়ার্সের মিলিত সংগ্রহ ছয় উইকেট। ১২ ওভারে তাঁরা দিলেন মাত্র ৬০ রান। ওভারপ্রতি যা মোটে পাঁচ রান! তবে ‘ম্যাচের সেরা’ অবশ্যই চায়নাম্যান কুলদীপ। চার ওভারে মাত্র ১৮ রানে তিন উইকেট নিলেন ৩০ বছর বয়সি। একসময় হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন কুলদীপ। তবে তা হয়নি। অক্ষর, বরুণও অবশ্য পিছিয়ে ছিলেন না। ত্রয়ীর স্পিনজালে রীতিমতো অসহায় দেখাল সলমন আগাদের। শেষদিকে শাহিন আফ্রিদির ব্যাট না চললে একশোও উঠত না। ভাগ্যের সহায়তাও মিলেছিল। নইলে আরও একপেশে দেখাত দুবাইয়ের মহারণ।
ম্যাচ শুরুর আগেই কুলদীপকে নিয়ে শঙ্কার কথা শুনিয়েছিলেন ওয়াসিম আক্রাম। পাক কিংবদন্তি বলেছিলেন, ‘ওর বল পিচে পড়ার পর তা বুঝে ওঠা মুশকিল।’ বিরতিতে আক্রামের গলায় শোনা গিয়েছিল আক্ষেপ, ‘১২৭ রান মোটেই জেতার মতো নয়। ওরা কুলদীপের বল বুঝতেই পারেনি। সেজন্যই বারবার সুইপ মারতে গেল। প্রচুর ডটবলও খেলে ফেলল।’ কীভাবে খেলা উচিত কুলদীপকে? সুনীল গাভাসকরের কাছে টসের পর জানতে চেয়েছিলেন আক্রাম। সানির পরামর্শ ছিল, ‘রিস্ট স্পিনারদের হাতের মোচড় ধরতে না পারলে খেলা কঠিন। কোন বল কোনদিকে যাবে, তা বোঝা অসম্ভব হয়ে পড়ে। কারণ পিচে পড়ার পর দেখার সময় কম থাকে। পাশাপাশি কুলদীপের মতো স্পিনারকে সামলাতে ফুটওয়ার্কও জরুরি। ব্যাকফুটে খেলা দরকার।’
কোথায় ভুল হল পাক ব্যাটারদের? রবি শাস্ত্রীর বিশ্লেষণ, ‘কুলদীপ গতির হেরফের ঘটিয়ে ওদের বিভ্রান্তি বাড়ায়। বলের গতিপথ ধরতে না পেরে ওরা সুইপ মারার চেষ্টা করে। কুলদীপ তাই বেশি করে গুগলি দিতে থাকে। খুচরো রান আটকে যাওয়ায় বড় শট মারতে বাধ্য হয় ওরা। তাতেই পতন ডেকে আনে পাকিস্তান।’ থাকল অক্ষরের প্রশংসাও। প্রকৃতপক্ষে, ভারতীয় স্পিনারদের মধ্যে প্রথম আঘাত হানেন তিনিই। পর পর ফখর জামান ও সলমনকে ফেরান। শাস্ত্রী বললেন, ‘ও অসাধারণ বোলার। গতি কমিয়ে বল করল। তার ফলও পেল। অক্ষর দলের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে রান করে। উইকেট নেয়। দুর্দান্ত ফিল্ডারও।’
এশিয়া কাপে টানা দুই ম্যাচে নায়কের পুরস্কার পেলেন কুলদীপ। তিনি বললেন, ‘পরিকল্পনা অনুসারে বল করেই সফল। কাকে বল করছি সেটা বুঝে বদলেছি স্ট্র্যাটেজি। উইকেট নেওয়াই ছিল লক্ষ্য। আরও উন্নতির জায়গা রয়েছে।’ ইংল্যান্ডের মাটিতে পাঁচ টেস্টের সিরিজে ড্রেসি-রুমই ছিল তাঁর ঠিকানা। কোনও ম্যাচেই প্রথম এগারোয় জায়গা হয়নি। তবে সেই হতাশা কাটিয়ে এশিয়া কাপে বিধ্বংসী মেজাজে হাজির তিনি। পকেটে সাত উইকেট, এই আসরের সর্বাধিক উইকেটশিকারী এখন কুলদীপই।