নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: দামোদর নদে জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের জলপ্রকল্পের ব্রিজটি কীভাবে ভেঙে পড়ল তা খতিয়ে দেখতে কলকাতা থেকে এলেন দপ্তরের বিশেষজ্ঞ আধিকারিকরা। কী কী ক্ষতি হয়েছে, কত দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা যাবে সেব্যাপারে সার্ভে করেন তাঁরা। এই জলপ্রকল্প স্তব্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রভাব পড়েছে জামুড়িয়া, রানিগঞ্জ ও আসানসোলের কিছু অংশে। অন্য প্রকল্পের জল ও ট্যাঙ্কার দিয়ে বাড়তি জল সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে পুরসভা। তা সত্ত্বেও বিস্তীর্ণ অংশে বুধবার বিকেল থেকেই জলসঙ্কট শুরু হয়েছে। দামোদরে বেপরোয়া বালি লুটের জন্যই এই বিপর্যয়, ঘনিষ্ট মহলে জানিয়েছিলেন পুরসভা ও দপ্তরের বিশেষজ্ঞরা। এবার সেই ইস্যু সামনে রেখে ময়দানে নেমেছে সিপিএম ও বিজেপি।
আসানসোল পুরসভার কমিশনার অদিতি চৌধুরী বলেন, জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তর সার্ভে করছে। সেই রিপোর্ট দেখেই আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব। যাতে মানুষের সমস্যা লাঘব করা যায় সেদিকে নজর দেওয়া হবে।
বুধবার দুপুরে হীরাপুর থানার কালাঝরিয়ায় দামোদর নদের উপর ব্রিজটি ভেঙে পড়ে। অভিযোগ, ব্রিজটিকে সার্পোট দেওয়ার জন্য নদীর তলদেশ থেকে ব্রিজ পর্যন্ত যে পিলারগুলি দেওয়া ছিল তা দুর্বল হয়ে গিয়েছে। মূলত তার গোড়া থেকে বেপরোয়াভাবে বালি তোলার জেরেই এই ঘটনা। এদিন সকালে বিপজ্জনক অবস্থায় ঝুলে থাকা ব্রিজটি বাঁশ দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়। দুপুরে আসে বিশেষজ্ঞ টিম। তারা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে। এই ব্রিজের উপর দিয়েই জল পাইপলাইনের মাধ্যমে নদী থেকে আনা হয়। ব্রিজের পিলার যা টেকনিক্যাল ভাষায় পিয়ার বলা হয়। সেই পিয়ারের কম্পনের জেরেই এই বিপর্যয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। এখানে প্রশ্ন উঠছে, জলের স্রোতে পিলারে কম্পন হল কেন? জানা গিয়েছে, এলাকার বালির স্তর হালকা হয়ে গেলে এই ঘটনা স্বাভাবিক। কালাঝরিয়া এলাকা থেকে বেপরোয়া বালি তোলা হয়েছিল। সেইসময়ে পুরসভা জলপ্রকল্প রক্ষায় চিঠি দিয়েছিল। তাতেও কাজ হয়নি বলে অভিযোগ। ওই এলাকাতেই পুরসভারও একটি জলপ্রকল্প রয়েছে। তারও প্রায় একই দশা। অভিযোগ, বর্ষাকালেও দামোদর থেকে নৌকার মাধ্যমে বিপুল বালি তোলা হচ্ছে। পুলিস অভিযানও চালাচ্ছে। তা সত্ত্বেও সক্রিয় বালি কারবারিরা।
এদিন জেলাশাসকের সঙ্গে দেখা করে এনিয়ে লিখিত অভিযোগ করে সিপিএম। জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য পার্থ মুখোপাধ্যায় বলেন, এক মাস ধরে আমরা অবৈধ বালি লুট নিয়ে অভিযোগ করে আসছি। কোনও কাজ হয়নি। বালি লুটের জন্যই ব্রিজ ভেঙে পড়ল। বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পল বলেন, এলাকায় গেলেই দেখতে পাবেন নদীর চরে পাম্প বসানো বিশাল বিশাল নৌকা লুকনো আছে। প্রশাসন জানে না এগুলি দিয়ে কী করা হয়?
পানীয় জলের সঙ্কটে সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ছেন। জামুড়িয়ার ১২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ন’টি ওয়ার্ডে এই প্রকল্প থেকে জল সরবরাহ হতো। সেখানে সঙ্কট দেখা গিয়েছে। পুরসভা ইতিমধ্যেই জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের কাছে ১৫টি অতিরিক্ত ট্যাঙ্কার দেওয়ার আর্জি জানিয়েছে।-নিজস্ব চিত্র