Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দামি গাড়ি পড়ে থেকে নষ্ট, স্ক্র্যাপ বলে বিক্রি করে বিতর্ক, হলদিয়া পুরসভার পদক্ষেপ নিয়ে সরব বিরোধীরা

হলদিয়া পুরসভার স্ক্র্যাপ মেটিরিয়াল বিক্রি নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, তহবিল গড়তে গিয়ে পুর কর্তৃপক্ষ নষ্ট হওয়া যন্ত্রপাতিগুলি জলের দরে বিক্রি করেছে। পুরসভার অন্দরে বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

দামি গাড়ি পড়ে থেকে নষ্ট, স্ক্র্যাপ বলে বিক্রি করে বিতর্ক, হলদিয়া পুরসভার পদক্ষেপ নিয়ে সরব বিরোধীরা
  • ২৪ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, হলদিয়া: হলদিয়া পুরসভার স্ক্র্যাপ মেটিরিয়াল বিক্রি নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, তহবিল গড়তে গিয়ে পুর কর্তৃপক্ষ নষ্ট হওয়া যন্ত্রপাতিগুলি জলের দরে বিক্রি করেছে। পুরসভার অন্দরে বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো গুঞ্জন শুরু হয়েছে। শাসক ও বিরোধী দলের নেতাদের কাছে বিক্রি হওয়া স্ক্র্যাপের ছবি পৌঁছতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অভিযোগ, পুরসভার দামী গাড়ি ও যন্ত্রপাতি ছাউনির অভাবে দিনের পর দিন রোদে জলে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। দক্ষ চালকের অভাবে প্রায়ই বিভিন্ন গাড়ি ও মেশিন বিকল হয়ে যাচ্ছে। বিকল গাড়িগুলি সময়মতো মেরামতিও হয় না। ফলে গাড়ি ও যন্ত্রপাতির একাংশ মেয়াদ ফুরোনোর অনেক আগেই স্ক্র্যাপে পরিণত হচ্ছে বলে অভিযোগ। একদিকে, গাড়ি ও যন্ত্রপাতি পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা খরচে কেনা হয়েছে একের পর এক নতুন গাড়ি। রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও এসব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। গত তিন দিন ধরে সিটি সেন্টারে হলদিয়া পুরসভার অফিস চত্বর থেকে স্ক্র্যাপ মেটিরিয়াল গাড়ি বোঝাই করে বেরিয়েছে। বছর চারেকের পুরনো স্যানিটাইজার স্প্রের টোটোগুলি স্ক্র্যাপ মেটিরিয়াল হিসেবে বিক্রি করায় হইচই পড়ে যায়। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২০ সালে করোনার সময়ে পাম্প মেশিন ও বড় জলের ড্রাম লাগানো বিশেষ ধরনের কয়েকটি টোটো কেনা হয়েছিল। ওই টোটোগুলি গত দু’-তিন বছর ধরে রোদে জলে পড়ে থেকে নষ্ট হয়েছে। বিজেপি নেতা প্রদীপ বিজলি বলেন, স্ক্র্যাপ মেটিরিয়াল বিক্রি নিয়ে আমাদের আপত্তি নেই। পুর কর্তৃপক্ষ যদি নিয়ম মেনে টেন্ডার ডেকে বিক্রি করে সেক্ষেত্রে আপত্তি করছি না। কিন্তু যে মেশিন বা যন্ত্রপাতি ব্যবহারযোগ্য, তাকে কীভাবে স্ক্র্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে, প্রশ্ন সেখানেই। তাঁর দাবি, এ বিষয়ে পুরসভার আধিকারিকদের ফোন করেছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁদের একাংশ বিষয়টি নিয়ে অন্ধকারে বলে জেনেছেন। পুরকর্মী ও বিরোধীদের দাবি, শহরে ধূলিকণা দূষণ ঠেকাতে নতুন স্প্রিঙ্কলার মেশিন কেনা হয়েছে। পুরনো টোটোগুলিকে সেই কাজে লাগানো যেত। তবে পুর কর্তৃপক্ষের দাবি, স্ক্র্যাপ মেটিরিয়াল বিক্রিতে অনিয়ম বা বিতর্কের কোনও প্রশ্নই নেই। স্বার্থান্বেষী মহল এনিয়ে অযথা জলঘোলা করার চেষ্টা করছে। পুর প্রশাসক সুপ্রভাত চট্টোপাধ্যায় বলেন, পুরসভা চত্বর দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের স্ক্র্যাপ মেটিরিয়ালে ভরে উঠেছিল। এগুলি সরাতে টেন্ডার ডাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মেটাল স্ক্র্যাপ ট্রেড করপোরেশন (এমএসটিসি) নামে একটি সংস্থাকে ওই দায়িত্ব দেওয়া হয়। সংস্থাটি কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন। তারা পর্যবেক্ষণের পর স্ক্র্যাপ মেটিরিয়াল বিক্রির জন্য অনলাইন টেন্ডার ডাকে। এরপর নিলাম করে সাড়ে ১০ লক্ষ টাকায় পুরসভার স্ক্র্যাপ মেটিরিয়াল বিক্রি হয়েছে। পুর কর্মী চন্দন বেরা বলেন, এমএসটিসির লোকজন তিনবার ভিজিট করে স্ক্র্যাপ হিসেবে কোনগুলি বিক্রি হতে পারে তা ঠিক করেছেন। নিয়ম মেনে টেন্ডার ও নিলাম করে বিক্রি করায় পুরসভা তিনগুণ টাকা পেয়েছে বলে দাবি ওই কর্মীর। তবে পুর কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে, ছাউনি না থাকায় গাড়ি নষ্ট হচ্ছে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ট্রাক্টর, যাত্রীবাহী গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স, ট্রাক, ডাম্পার, সাকশান মেশিন, মিস্ট ক্যানন সহ বিভিন্ন ধরনের ৪০টির বেশি গাড়ি ও মেশিন রয়েছে। প্রায় ৪-৫ কোটি টাকার ওইসব গাড়ি ছাউনির নীচে রাখার মতো ব্যবস্থাই নেই। ইতিমধ্যেই প্রায় অকেজো হয়েছে ট্রমা কেয়ার অ্যাম্বুলেন্স। প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুধাংশু মণ্ডলের সময়ে ছাউনির জন্য প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার টেন্ডার হলেও ইঞ্জিনিয়ারদের গড়িমসিতে সে কাজ এগয়নি বলে অভিযোগ। 

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ