নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: রবিবার সকাল আটটা পর্যন্ত চন্দননগরের জগৎ বিখ্যাত শোভাযাত্রা চলল। তার জেরে গেল পিছিয়ে নিরঞ্জন পর্ব। রবিবার সকালের পর থেকে চন্দননগর ও ভদ্রেশ্বরের ঘাটগুলিতে দিনভর প্রতিমা নিরঞ্জন হয়েছে। এদিন সন্ধ্যা নাগাদ কেন্দ্রীয় কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছিল, রাত পর্যন্ত ভাসানের ঘাটগুলিতে ছিল প্রতিমার বহর। নিরঞ্জনপর্ব সম্পূর্ণ হতে রাত দু’টো বেজে যাওয়ার সম্ভাবনা। তবে উপভোগ্য শোভাযাত্রা ও ভাসানপর্ব সুষ্ঠুভাবেই হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটির সুযোগ্য পরিচালনায় ঐতিহ্যবাহী পুজো বজায় রেখেছে তার শান্তিপূর্ণ ভাসানের ঐতিহ্য। নিষিদ্ধ বাজি ও ডিজে বক্স বাজেনি। ফলে পরিবেশপ্রেমীদের কাছ থেকে জুটেছে প্রশংসা।
চন্দননগর কেন্দ্রীয় জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটির চেয়ারম্যান(ভাসান) মানব দাস বলেন, ‘শোভাযাত্রা যেমন আড়েবহরে বেড়েছে তেমনই বেড়েছে দর্শকদের বিপুল আগ্রহ। সেই কারণেই শোভাযাত্রা শেষ করতে সময় লেগেছে। রবিবার দিনভর ভাসানপর্ব সুষ্ঠুভাবে চলেছে। সে পর্ব সুষ্ঠুভাবে পার করতে যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।’ কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান নিমাইচন্দ্র দাস বলেন, ‘সময় বেশি লাগলেও ভাসানপর্ব শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে। প্রশাসন ও পুরসভার তরফে আমরা সাহায্য পেয়েছি। সমস্ত পুজো উদ্যোক্তা শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে কাজ করেছে। আমাদের কাছে জগদ্ধাত্রী পুজো আবেগ ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন। তার কোনও ত্রুটি যাতে না হয় তার জন্য সকলেই দায়িত্ব পালন করেছেন।’
কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকাল ও রবিবার সকাল মিলিয়ে ভাসান পর্ব চলেছে। যে সমস্ত পুজো কমিটি শোভাযাত্রায় ছিল তারা রবিবার ভাসানে অংশ নেয়। রাত আটটা পর্যন্ত সিংহভাগ ভাসান হয়ে গেলেও আরও অনেক প্রতিমা একাধিক ঘাটে অপেক্ষায় ছিল। এদিকে বিসর্জনে ডানকুনিতেও ব্যাপক ভিড় হয়েছিল। ফলে জাতীয় সড়কে যানজট তৈরি হয়। পথচারীদের সমস্যায় পড়তে হয়। জেলার অন্যত্রও ভাসানপর্ব সুষ্ঠুভাবে মিটেছে বলে জানা গিয়েছে।