সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: একজন পেশায় আইনজীবী। অন্যজন ভোটের আগে পর্যন্ত পরিচারিকার কাজ করতেন। জেলার দুই বধূ এবার মন্ত্রী। বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র এবং আউশগ্রাম থেকে জয়ী হওয়া কলিতা মাঝি সোমবার কলকাতার লোকভবনে যখন শপথ নিচ্ছেন তখন উচ্ছ্বাসে ভাসল শস্যগোলা। বিশেষ করে কলিতার লড়াইকে কুর্নিশ জানালেন জেলাবাসী। একসময় পরিচারিকার কাজ করে তিনি সংসারের হাল ধরেছিলেন। স্বামী দিনমজুর। বাড়ির কঠিন পরিস্থিতিতেও নীরবে সংগঠনের কাজ করে গিয়েছিলেন কলিতা। দলও তাঁকে মন্ত্রীর চেয়ারে বসিয়ে পুরষ্কৃত করল। মৌমিতা বিশ্বাসও সংগঠনের সঙ্গে বহুদিন ধরে যুক্ত। একাধিক পদে ছিলেন তিনি। প্রথমবার ভোটে লড়াই করে বাজিমাত করেছেন তিনি।
এদিন কলিতা বলছিলেন, ‘এতবড় সম্মান পাব কোনোদিন ভাবিনি। দলীয় নেতৃত্বর কাছে আমি চিরঋণী। আমার জয়ের পিছনে মানুষের অবদানও ভোলার নয়। তাঁদের আর্শীবাদ না পেলে আজ এই জায়গায় আসতে পারতাম না। মানুষের সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করব। আউশগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে ভালো একটি হাসপাতাল দরকার। কেউ অসুস্থ হলেই উন্নত চিকিৎসার জন্য বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। আগামীদিনে তাঁরা যাতে আউশগ্রামেই সেই পরিষেবা পান, তা দেখব।’ নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী কলিতা স্কুলের আঙিনায় পা দেননি। জীবন-যুদ্ধের শুরু থেকেই রুজিরুটির তাগিদ তাঁকে তাড়িয়ে বেড়িয়েছে। সংসার-যাপনের সঙ্গেই যোগ দিয়েছেন রাজনীতিতে। একেবারে অচেনা, অজানা ক্ষেত্র হলেও খুব কম সময়েই দক্ষ হয়ে উঠেছেন। বক্তব্য রাখেন সংযতভাবে। তিনি বলেন, ‘তৃণমূলের জমানায় রাজনীতির রং দেখে পরিষেবা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমরা তা করব না। সবাই যাতে সমান সুবিধা পান, সেটাই দেখা আমার দায়িত্ব।’
বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক মৌমিতাও বলছিলেন, ‘উন্নয়ন তো হবেই। পাশাপাশি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে আমি সর্বদা সচেষ্ট থাকব। কোনো কাজে অনিয়ম করতে দেওয়া হবে না। সাধারণ মানুষ যাতে সরকারি সুযোগ সুবিধা পান, তা দেখা হবে। জনগণের আশীর্বাদের জন্যই দল আজ ক্ষমতায়। অনেক কাজ বাকি রয়েছে। সেগুলি ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ করা হবে।’
পূর্ব বর্ধমান জেলায় ১৬টির মধ্যে ১৪টি আসনে বিজেপি এবার জয়ী হয়েছে। মহিলা প্রার্থী ছিলেন দু’জন। দু’জনেরই লড়াই কঠিন ছিল। মৌমিতার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন দাপুটে তৃণমূল নেতা খোকন দাস। শহরে তিনিই ছিলেন শেষ কথা। আউশগ্রামে কলিতার প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার। তাঁকেও তিনি সহজেই হারিয়েছেন। আউশগ্রামের বাসিন্দা মিতা চৌধুরী বলেন, ‘কলিতার এই লড়াই আমাদের মতো সাধারণ মহিলাদের উৎসাহ জোগাবে। আউশগ্রাম ওঁর জন্য গর্বিত।’ বর্ধমানের বাসিন্দা অনীশ দাস বলেন, ‘জেলা থেকে দু’জন মহিলাকে মন্ত্রী করার সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষ খুশি। আগামী দিনে উন্নয়নমূলক কাজ আরও গতি পাবে।’
মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র (বাঁদিক) এবং কলিতা মাঝি।