সংবাদদাতা,বারুইপুর: বৃন্দাবনে যে নিয়মে রাস উৎসব হয় সেই রীতি মেনেই বারুইপুরে রায়চৌধুরীদের রাস হয়। জমিদারির পুরনো রেওয়াজ মেনে বসে তরজা গানের আসর। পুতুল নাচ হয়। বাড়ির ভিতরে রয়েছে নাটমন্দির। সেখান থেকে রাধাকৃষ্ণকে দশজন বাহক কাঁধে তুলে নিয়ে আসেন রাসমঞ্চে। পুজোর পরে আতশবাজি প্রদর্শনী। রাস দেখতে দূরদূরান্ত থেকে আসে মানুষ।
রায়চৌধুরীদের রাসের বয়স ৩০০ বছর। এখন রাসমঞ্চ, সিংহাসন সাজানোর কাজ করছেন মায়া ও গোকুল নামে এক দম্পতি। ২৫ বছর ধরে তাঁরা এই কাজ করছেন। সেজে উঠছে মাঠ। অর্ধেক দোকান বসেও গিয়েছে। ফি বছরের মত এবারও এসেছে সার্কাস।
মগরাহাট ধনপোতার বাসিন্দা মায়া মণ্ডল ও তাঁর স্বামী গোকুল। তাঁরা মৃৎশিল্পী। ধনপোতা থেকে চলে এসেছেন বারুইপুরের দোলতলায়। রায়চৌধুরীদের দেওয়া একটি জায়গায় তাঁরা থাকেন। সেখানেই প্রতিমা তৈরি করেন। এরপর কার্তিক এবং সরস্বতী গড়ার বরাতও পেয়েছেন। রায়চৌধুরীদের নির্দেশ মেনে এই দম্পতি এখন রাসমঞ্চ সাজানোর কাজ করছেন। মায়াদেবী বলেন, ‘রাস উৎসবের জন্য সারাদিন কাজ করে রাসমঞ্চ, দেবতাদের সিংহাসন সাজিয়ে তোলা হচ্ছে।’ রায়চৌধুরী পরিবারের সদস্য অমিয়কৃষ্ণবাবু বলেন, ‘জমিদারি চলে গিয়েছে। কিন্তু ঐতিহ্য মেনে সব কিছু করা হচ্ছে।’ তিনি জানান, রাসের প্রথমদিন ঠাকুরের রাখাল বেশ। দ্বিতীয় দিন তিনি নটবর। তৃতীয় দিন রাজবেশ পরিয়ে তাঁকে রাসমঞ্চে আনা হয়। মেলার মূল আকর্ষণ সার্কাস। মেলা চলবে এক মাস। গাছগাছালি থেকে শুরু করে জিলিপি, বাদাম, গৃহস্থালির সরঞ্জামের দোকান বসেছে।