


সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: মালদহের বৈষ্ণবনগরের চামাগ্রাম হাইস্কুলে শিক্ষকদের উপর হামলা চালিয়েছিল পরীক্ষার্থীরা। সেঘটনায় শিক্ষাদপ্তর তদন্তের নির্দেশ দেয়। তার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নকল করতে দেওয়ার দাবিতে অবস্থান বিক্ষোভ করল পরীক্ষার্থীরা। শুক্রবার সামশেরগঞ্জের ভাসাইপাইরড় হাইস্কুলে এই ঘটনা ঘটে।
এদিন সকালে সেখানে পরীক্ষার হলে ঢোকার আগেই শতাধিক পরীক্ষার্থী নকল করতে দেওয়ার দাবিতে অবস্থান শুরু করে। মিনিট দশেক ধরে তাদের এই বিক্ষোভ চলে। এই পরীক্ষার্থীরা বেশিরভাগ সামশেরগঞ্জের কাঞ্চনতলা জেডিজে ইন্সটিটিউটের ছাত্রছাত্রী। ঘটনাটি জানাজানি হতেই শিক্ষামহলে নিন্দার ঝড় উঠেছে।
জঙ্গিপুর মহকুমার সহকারী স্কুল পরিদর্শক(মাধ্যমিক) সন্দীপ কোড়া বলেন, খবর পেয়ে আমি ওই স্কুলে পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। তখন সুষ্ঠুভাবেই পরীক্ষা চলছিল। কিছু পরীক্ষার্থী শুরুতে যে অন্যায্য দাবি তুলেছিল, তা মানা সম্ভব নয়। যদিও তারা পরে নিয়ম মেনেই পরীক্ষা দিয়েছে।
গত বুধবার ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষায় নকল রুখতে কড়া ছিলেন পরীক্ষকরা। পরীক্ষার্থীদের হলের ভিতরে নিজেদের মধ্যে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। তাই এদিন পরীক্ষাহলের বাইরে মাঠে বসে পড়ে পরীক্ষার্থীরা। একদিকে ছাত্র ও অন্যদিকে ছাত্রীরা বসে শ্লোগান দিতে থাকে। এমনকী, পরীক্ষকদের গো ব্যাক শ্লোগান দেওয়া হয়। তাদের দাবি ছিল, এত কড়াভাবে পরীক্ষা নেওয়া যাবে না। পরীক্ষাহলে অন্তত ‘হল ম্যানেজ’ করতে দিতে হবে। এরপর স্কুলের শিক্ষকরা এসে পরীক্ষার্থীদের বোঝান। তারপর তারা অবস্থান বিক্ষোভ তুলে নেয়। নির্দিষ্ট সময়েই তারা পরীক্ষাহলে প্রবেশ করে।
পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই সমালোচনার ঝড় ওঠে। এর আগে কখনও পরীক্ষাহলে ঢোকার আগে তল্লাশি চালানোয় শিক্ষকদের উপর হামলা, আবার কখনও নকল, বইখাতা ছিঁড়ে রাস্তায় উড়িয়ে উল্লাস দেখা গিয়েছে। শিক্ষার্থীদের এমন আচরণে উদ্বিগ্ন শিক্ষকরা।
ভাসাইপাইকড় হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক তসিকুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষার শুরুতেই কিছু ছেলেমেয়ে বসে বিক্ষোভ দেখায়। তাদের বোঝানো হলে পরে তারা পরীক্ষা দেয়। স্কুল পরিদর্শক বলেন, পরীক্ষার্থীরা যদি এমন অন্যায় আবদার করে, তাহলে কিছু বলার নেই। অভিভাবক ও শিক্ষকদের আরও সজাগ হওয়া প্রয়োজন।