Bartaman Logo
১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রোগী দেখার ঘরে বসবে ইভিএম, বজবজে তিনটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হতে চলেছে ভোটগ্রহণ!

স্কুল, কলেজ কিংবা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রকে প্রয়োজন মত ভোটকেন্দ্র করা হয়েছে। সেখানে এক বা একাধিক বুথও হয়েছে।

রোগী দেখার ঘরে বসবে ইভিএম, বজবজে তিনটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হতে চলেছে ভোটগ্রহণ!
  • ৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১৪:০৪
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: স্কুল, কলেজ কিংবা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রকে প্রয়োজন মত ভোটকেন্দ্র করা হয়েছে। সেখানে এক বা একাধিক বুথও হয়েছে। এমন চিত্র প্রতি ভোটেই দেখা যায়। কিন্তু এবারে স্বাস্থ্যকেন্দ্রকেও ভোটকেন্দ্রে পরিণত করা হবে। এমনই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটতে চলেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বজবজ ১ ব্লকের একটি সুস্বাস্থ্য ও দু’টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। ইতিমধ্যে এর প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশাসনকে চিঠি লিখেছেন ব্লকের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক। যদিও এখনো পর্যন্ত বিকল্প কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। 

Advertisement

সূত্রের খবর, মায়াপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের হাসনেচা সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র, নিশ্চিন্তপুর পঞ্চায়েত এলাকার জামালপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ব্লক নিয়ন্ত্রণাধীন বিরাজলক্ষ্মী প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে বুথ করার জন্য বাছাই করা হয়েছে। আপাতত এই তিন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তিনটি বুথ হবে। এই জায়গাগুলিতে বেশ ভালো রকমের রোগীর চাপ থাকে। বহির্বিভাগে প্রত্যেক দিন কয়েকশো এলাকাবাসী ডাক্তার দেখাতে আসেন। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকদের আশঙ্কা, যদি এখানে বুথ করা হয়, তাহলে কমপক্ষে সাতদিন যাবতীয় পরিষেবা বন্ধ থাকবে। তাতে সমস্যা হতে পারে রোগীদের। দূরে কোথাও ছুটে যেতে হবে তাঁদের।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা স্বাস্থ্য জেলার মুখ্য আধিকারিক মুক্তিসাধন মাইতি বলেন, প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়েছে। আশা করছি তারা এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে।
কিন্তু কেন স্কুল, কলেজ ছেড়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রকেই ভোটকেন্দ্র করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে? প্রশাসনের যুক্তি, অনেক জায়গাতেই বুথের সংখ্যা বেড়েছে। যেখানে পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া গিয়েছে, সেখানে কোথাও অস্থায়ী কাঠামো বানিয়ে ভোটকেন্দ্র বানানো হবে। আর যেখানে একান্তই জায়গার অভাব রয়েছে, সেখানে বিকল্প ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যেমন বজবজের এই তিনটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে বাছাই করা হয়েছে।
 যদিও জেলার আর কোথাও এমন পরিস্থিতি হয়নি।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, যেসব ঘরে রোগীদের দেখা হয়, তার ভোল বদলে ভোটকেন্দ্র বানানো হবে। ইভিএম মেশিন সহ অন্যান্য সরঞ্জাম থাকবে। ডাক্তার দেখানোর ঘরে মানুষ ঢুকবে ভোট দিতে। ভোটকেন্দ্র গড়ে তুলতে ভোটের তিন, চারদিন আগে থেকেই শুরু হয়ে যাবে প্রস্তুতি। তখন জায়গাটি কেন্দ্রীয় বাহিনীর আওতায় চলে যাবে। ফলে তারপর থেকে কিছুদিনের জন্য আর কোনোরকম রোগী পরিষেবা দেওয়া যাবে না। ভোট মিটে গেলেও কবে থেকে আউটডোর চালু করা যাবে, সেটাও এখনই স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ