নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: একাধিক স্টেশন থেকে হকার উচ্ছেদ করতে উদ্যোগ নিয়েছে রেল। কোথাও নোটিস ধরাচ্ছে। কোথাও মাইকে ঘোষণা করে সরে যেতে বলছে। মঙ্গলবার বিরাটি স্টেশনে হকার উচ্ছেদের ঘোষণা ছিল। তার প্রতিবাদে হকারদের সঙ্গে বিরাটি স্টেশনে হাজির ছিল বামেদের শ্রমিক সংগঠন সিটু। শেষপর্যন্ত দেখা গিয়েছে, রেল এদিন অভিযান চালায়নি। তা দেখার পর হকারদের আশঙ্কা, ঘোষণা না করে গোপনে কোনো এক রাতে আচমকা উচ্ছেদ চালানো হতে পারে।
বিরাটি স্টেশন ও সংলগ্ন এলাকায় রেলের জায়গায় প্রায় আড়াইশোর মত দোকান আছে। এ জন্য মানুষের হাঁটাচলা করতে অসুবিধা হয় বলে অভিযোগ। এই নিয়ে মাস কয়েক আগে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হয়। তারপর আদালত অবৈধ দোকান ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়। ছ’মাস আগে রেলপুলিশ ও রাজ্য পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনটির মতো দোকান ভেঙে দেয়। আর বাকি অবৈধ দোকানগুলি যেমন ছিল তেমনই থাকে। সে সময় সিপিএম ও তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন এবং তৃণমূলের কাউন্সিলাররা আন্দোলনে নেমেছিল। সেই বাধায় থমকে গিয়েছিল উচ্ছেদের কাজ। রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর নতুন করে দখলদার উচ্ছেদ শুরু করেছে রেল। মঙ্গলবার বিরাটি স্টেশনে অবৈধ দোকান ভাঙার ঘোষণা ছিল। তবে সময়ের আগেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন সিটু নেত্রী গার্গী চট্টোপাধ্যায় ও উত্তর দমদম বিধানসভার সিপিএম প্রার্থী দিপ্সিতা ধর। হকারদের নিয়ে জমায়েত করে বিরাটি স্টেশন ও সংলগ্ন এলাকায় মিছিল করে সিটু।
অন্যদিতে উত্তর শহরতলির বেলঘরিয়া সহ একাধিক স্টেশনে উচ্ছেদের নোটিস দেওয়া হয়েছে। সেখানেও হকারদের একত্র করে উচ্ছেদের প্রতিবাদে পথে নেমেছে সিটু। তবে এবার তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন বা নেতৃত্বকে দেখা যায়নি। গার্গী চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘২২ মে দলমত নির্বিশেষে হকারদের নিয়ে শিয়ালদহ বিগ বাজারের সামনে আমরা জমায়েতের ডাক দিয়েছি। সেখান থেকে পরবর্তী আন্দোলনের রূপরেখা ঠিক হবে। আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই, পুনর্বাসন ছাড়া কোনো উচ্ছেদ করা যাবে না। রেলের আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করে ইতিমধ্যেই আমরা সেই আবেদন জানিয়েছি।’