নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ছাড় দিয়েও জলপাইগুড়িতে প্রথম নিলামে চা বিক্রি হল মাত্র ৪০ শতাংশ। পড়ে রইল ৫৫ হাজার কেজি চা। ১১ বছর বন্ধ থাকার পর সোমবার জলপাইগুড়ি টি অকশন সেন্টারে চা নিলাম হয়। প্রথম দিন নিলামের জন্য ১ লক্ষ ৫ হাজার কেজি চা আসে। তার মধ্যে ৪৫ হাজার কেজি চা নিলাম হয়েছে এদিন। ই-অকশনে অংশ নেন ৫২ জন ক্রেতা। জলপাইগুড়ি টি অকশন সেন্টার থেকে এদিন নিলাম হওয়া চায়ের কেজিতে সর্বোচ্চ দাম মিলেছে ২২৭ টাকা। সবচেয়ে কম দাম পাওয়া গিয়েছে ১১৪ টাকা। জলপাইগুড়ি চা নিলাম কেন্দ্রটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে নর্থবেঙ্গল টি অকশন কমিটি। প্রথমদিন আরও একটু বেশি চা নিলাম হবে বলে আশা ছিল তাদের। তবে, ক্রেতার সংখ্যা বাড়বে বলে আশাবাদী তারা।
অকশন কমিটির টাস্ক ফোর্সের চেয়ারম্যান সঞ্জয় ধানুটি বলেন, উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি কলকাতা থেকেও অনেক ক্রেতা এদিনের নিলামে অংশ নিয়েছেন। কিছু বড় কোম্পানি এখনও জলপাইগুড়ি টি অকশন সেন্টারের নিলামে অংশ নেওয়ার জন্য তাদের ওয়েবসাইট তৈরি করে উঠতে পারেনি বলে নিলামে অংশ নেয়নি।
নর্থবেঙ্গল টি অকশন কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান পুরজিৎ বক্সি গুপ্ত বলেন, চায়ের জোগানের অভাবে দু’বার বন্ধ হয় এই নিলাম কেন্দ্র। শেষবার ২০১৪ সালে। এটি যাতে এবার ভালোভাবে চলে, সেটাই লক্ষ্য আমাদের। নিলামের এক সপ্তাহের মধ্যে যদি ক্রেতা চায়ের দাম মেটান, সেক্ষেত্রে দামের উপর ২ শতাংশ ছাড় পাবেন। ১৫ দিনের মধ্যে দিলে এক শতাংশ ছাড়।
১১ বছর পর জলপাইগুড়ি চা নিলাম কেন্দ্র চালু উপলক্ষ্যে এদিন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে এক মঞ্চে ছিলেন জলপাইগুড়ির বিজেপি সাংসদ জয়ন্ত রায় ও জলপাইগুড়ি সদরের তৃণমূল বিধায়ক প্রদীপকুমার বর্মা। এছাড়াও হাজির ছিলেন টি বোর্ডের কর্তা সহ চা শিল্প মহলের প্রতিনিধিরা। টি বোর্ডের শিলিগুড়ির ডেপুটি ডিরেক্টর কমল বৈশ্য বলেন, উত্তরবঙ্গে প্রতি বছর ৪৩৫ মিলিয়ন কেজি চা হয়। এর মধ্যে মাত্র ১৩০ মিলিয়ন কেজি চা বিক্রি হয় নিলামে। বাকি চায়ের প্রাইভেট সেল হয়। ফলে নিলামের মাধ্যমে বেশি চা বিক্রির সুযোগ রয়েছে।
এক দশক পর নিলাম চালু হলেও জলপাইগুড়ি টি অকশন সেন্টারের হাল খুবই খারাপ। হলের ভিতরে ফলস সিলিং খসে পড়ছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় দরজা, জানালার হালও খারাপ। এসি অকেজো। উপস্থিত সাংসদ ও বিধায়কের কাছে কেন্দ্রের পরিকাঠামো উন্নয়নে সাহায্যের আর্জি জানায় নর্থবেঙ্গল টি অকশন কমিটি।
জলপাইগুড়ি ক্ষুদ্র চা চাষি সমিতির সম্পাদক বিজয়গোপাল চক্রবর্তী বলেন, খুবই খুশির খবর যে, ১১ বছর পর জলপাইগুড়ি চা নিলাম কেন্দ্র চালু হল। - নিজস্ব চিত্র।