সুখেন্দু পাল, পিনাকী ধোলে, সুমন তেওয়ারি, কাঁকসা, সিউড়ি, দুর্গাপুর: প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশাপাশি ডবল ইঞ্জিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও বাংলায় উড়ে আসছেন। অনেকে আবার ডেরা বেঁধেছেন। বাংলার দখল নেওয়ার জন্য মোদি-অমিত শাহ তো বটেই, ঝাঁপিয়ে পড়েছেন ১৯টি বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও প্রভাবশালী নেতারা। এর পরেও বাংলাকে বিজেপি হারাতে পারবে না বলে হুংকার দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার তিনি বীরভূমের সিউড়ি থেকে নির্বাচনি প্রচার শুরু করেন। প্রচণ্ড রোদের মধ্যেও সভায় ভিড় উপচে পড়ে। একই ছবি ছিল কাঁকসার রঘুনাথপুর এবং দুর্গাপুরের জনসভায়। আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘বাইরে থেকে লোক এনে বাংলা দখল করা যাবে না। বিজেপি যাতে ভোট লুট করতে না পারে, সেটা আমাদের সবাইকে দেখতে হবে। সিপিএমের কায়দায় ওরা লুট করতে পারে। বাংলা মাকে রক্ষা করতে হবে। বিজেপি স্বৈরাচারী দল। বাংলা দাঙ্গাকারী দলকে পছন্দ করে না।’
বিজেপির বহিরাগত নেতারা বাংলার ভোটে জেতার জন্য লাগাতার উসকানিমূলক মন্তব্য করছেন বলে অভিযোগ তুলেছিল তৃণমূল। উত্তরপ্রদেশের কায়দায় তাঁরা বুলডোজার চালানোর কথা বলছেন। এদিন সেই প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ‘কালই একজন বলে গিয়েছেন, এখানেও বুলডোজার চলবে। আমি বুলডোজারে বিশ্বাস করি না। মানবিকতায় বিশ্বাস করি। আমার ধর্মের নাম মানব ধর্ম। ভোটে জেতার জন্য বিজেপি বাংলায় টাকা ঢোকাচ্ছে বলে তৃণমূল নেত্রী অভিযোগ করেন। যাতে কেউ ধরতে না পারে, সেজন্য সব অফিসারকে অন্য রাজ্যে পাঠিয়ে দিয়েছে। বিহার থেকে টাকা, মাদক এবং অস্ত্র আসছে। ট্রেনে-বাসে করে লোক নিয়ে আসছে। একটি কোম্পানিকে অর্ডার দিয়েছে, তারা ভোটে কারচুপি করবে। তবে জেনে রেখো, সব জায়গায় চমকে ধমকে ভোট করতে পারলেও বাংলায় পারবে না। ২৯৪টি আসনে আমিই প্রার্থী।’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দাবি করেছেন, তিনিই ২৯৪টি কেন্দ্রের প্রার্থী। সেই প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ‘তাহলে আপনি প্রধানমন্ত্রীর পদটা ছেড়ে দিন! বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হবেন? এটা বলুন। কোন পদটা আপনি নেবেন? আগে দিল্লি সামলান, তারপর বাংলার দিকে তাকান। বাংলার দিকে কেউ বিষ চোখে তাকালে চোখ গেলে দেব। আমার মনোনয়নপত্র বাতিলের চেষ্টা করা হয়েছিল। চার ঘণ্টা স্ক্রুটিনিতে জ্বালিয়েছিলেন। আপনাদের ছেড়ে দেব? ফোর্স আর দিল্লির লাড্ডু দিয়ে বাংলা দখল করা যাবে না।’
সিউড়ি এবং রঘুনাথপুরের সভার পর দুর্গাপুর থেকেও বিজেপিকে তুলোধোনা করেন তৃণমূল নেত্রী। বলেন, ‘নির্বাচনের নামে প্রহসন চলছে। বিজেপির গুন্ডারা নাম কেটেছে। সিপিএম-কংগ্রেস মদত দিয়েছে। সুপার ইমার্জেন্সি চলছে।’ তৃণমূল কর্মীদের গাঁজা কেস দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘কেউটে সাপকে বিশ্বাস করবেন, তবু বিজেপিকে বিশ্বাস করবেন না। বিনা যুদ্ধে এক ইঞ্চি জমি ছাড়া যাবে না। ওরা নির্বাচনের সময় ভাঁওতা দেয়। আর ভোটের পর বুলডোজার চালিয়ে দেয়।’