বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়, বজবজ:
বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়, বজবজ:
নদীবাঁধের উপর বজবজ থানাঘাট। গা ঘেঁষে চলে গিয়েছে উদাসী গঙ্গা। বহু বছর আগে এখানকার নির্জন, গা ছমছমে পরিবেশে ঘাটের উত্তর-পূর্ব কোণে (তখন কংক্রিটের বাঁধানো ঘাট ছিল না) মাটির বেদি করে এক তন্ত্রসাধক কালী সাধনা করতেন। একদিন আচমকা উধাও হয়ে যান তিনি। সাধকের ফেলে যাওয়া সেই বেদির উপর একদিন কালীপুজো শুরু করেন স্থানীয় বজবজ থানায় কর্মরত পুলিশ কর্মীদের পরিবারের সদস্যরা। এবারও সেই পুজো হচ্ছে ধুমধাম করে। এক পুলিশ কর্মীর পরিবারের সদস্য জানালেন, এই বেদি খুব জাগ্রত। মাঝে বেশ কিছুদিন পুজোটি অন্য জায়গায় হচ্ছিল। থানার বাইরে রঘুর চায়ের দোকানের কাছে পুজো হতো। কিন্তু সেখানে বেশিদিন পুজো স্থায়ী হয়নি। ২০১৪ সালে ফের আগের বেদির উপরই ফিরিয়ে আনা হয় পুজো। তারপর থেকে এখানেই পুজো চলছে। ২০২৩ সাল পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে মণ্ডপ তৈরি করে মাটির মূর্তি বেদির উপর রেখে পুজো হতো। ২০২৪ সালে ভক্তদের সহযোগিতায় তৈরি হয়েছে স্থায়ী মন্দির। পাকাপোক্ত পাথরের মেঝের উপর কংক্রিটের কাঠামো। বেদির চারপাশও পাথর দিয়ে বাঁধানো হয়েছে। পাশাপাশি রাজস্থানের ব্ল্যাক মার্বেল দিয়ে তৈরি হয়েছে
মায়ের ভুবন ভোলানো প্রতিমা। এখানে মায়ের শান্ত ও স্নিগ্ধ রূপ থেকে যেন চোখ ফেরানো যায় না। গত বছর কালীপুজোর দিনেই নতুন মন্দিরে মায়ের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। কলকাতার জোঁড়াসাকোর কাছে একটি মার্বেলের দোকানে এই মূর্তি তৈরি হয়েছে। কিন্তু শিল্পীর নাম জানাতে রাজি নন এখানকার উদ্যোক্তারা। তারাপীঠের কালীসাধক সায়ন চক্রবর্তী বলছিলেন, ‘এখানে মা খুব জাগ্রত। এখানে যত ভক্ত সমাগম বাড়তে থাকবে, ততই মায়ের মহিমা ছড়িয়ে পড়বে দেশ থেকে দেশান্তরে।’