নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: পানীয় জল সরবরাহের জন্য পাইপ বসানোর কাজ শেষ হয়েছে মাসখানেক আগে। কিন্তু বারাসত শহরের নবপল্লি সার্কুলার রোডে এখন উন্নয়নের চেয়েও বড় বাস্তবতা—ধুলো ও দুর্ঘটনা! স্থানীয়দের অভিযোগ, সারাদিন উড়তে থাকা ধুলোর দাপটে কার্যত দমবন্ধ পরিস্থিতি। নাজেহাল হতে হচ্ছে পথচলতি মানুষজনকেও। দুর্ভোগ এতটাই মাত্রাছাড়া হচ্ছে যে এবার গণস্বাক্ষর করে পুরসভায় তা জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বারাসতের কলোনি মোড় থেকে কবরখোলা পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার রাস্তা খুঁড়ে জলের পাইপলাইন বসিয়েছে পুরসভা। এলাকাটি পুরসভার ৫ এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে পড়ে। জাতীয় সড়ক ও বারাকপুর রোডের সঙ্গে সংযোগ থাকায় রাস্তায় সারাক্ষণ যানবাহনের চাপ থাকে। কিন্তু পাইপ বসানোর কাজ শেষ হলেও রাস্তাকে এখনও আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি। ফলে খুঁড়ে ফেলে রাখা মাটি শুকিয়ে ধুলো তৈরি হচ্ছে আর তা বাতাসে উড়ে ঢেকে দিচ্ছে চারপাশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ধুলোয় জেরবার হতে হচ্ছে। একের পর এক গাড়ি যাচ্ছে। তার সঙ্গে উড়ছে ধুলো। অনেক সময় কয়েক সেকেন্ডের জন্য সামনে কিছু দেখা যাচ্ছে না। রাস্তার ধারের দোকানদারদের কথায়, ‘পণ্যসামগ্রী প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে রাখতে হচ্ছে। তবু ধুলো ঢুকছে। বাড়িতেও এক অবস্থা। জানালা-দরজা বন্ধ রেখেও মিলছে না রেহাই। বারান্দা, আসবাব, এমনকি রান্নাঘরেও ধুলোর আস্তরণ জমছে।’ সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় হল স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা। ধুলোয় শ্বাসকষ্ট, কাশি ও চোখ জ্বালার ঘটনা বাড়ছে। শিশু ও প্রবীণরা বেশি সমস্যায় পড়ছেন। অনেকে রাস্তায় বেরলেই রুমাল বা মাস্ক দিয়ে মুখ ঢাকছেন। কেউ কেউ বাড়ির সামনে জল ছিটিয়ে ধুলো কমানোর চেষ্টা করছেন। তবে জল শুকনো হলেই উড়ছে ধুলো।
স্থানীয় বাসিন্দা সুধীর দাশগপ্ত বলেন, ‘পানীয় জলের জন্য কষ্ট মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার পরেও রাস্তা ঠিক না করায় এখন ধুলোয় বাঁচাই দায়।’ গৃহবধূ সুস্মিতা মণ্ডলের কথায়, ‘বাচ্চাকে নিয়ে বেরতে ভয় লাগে। ধুলোয় চোখ জ্বালা করছে, শ্বাসকষ্ট হচ্ছে।’ প্রাক্তন রেলকর্মী সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় জানালেন, তাঁর বাড়িতে ধুলো ঢোকা আটকাতে ত্রিপল টাঙিয়েছেন। তারপরও ধুলো কমছে না। শ্বাসকষ্ট বাড়ছে।’ তাঁর প্রশ্ন, ‘এটা কি নাগরিক পরিষেবার মধ্যে পড়ে না?’ বারাসত পুরসভার চেয়ারম্যান সুনীল মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট তৈরির জন্য পাইপ বসানো হয়েছে। রাস্তা সংস্কারের কাজ দ্রুত শুরু হবে। কিছুটা সময় লাগবে।’ তবে বাসিন্দাদের বক্তব্য, আশ্বাসে কিন্তু ধুলো কমে না। দ্রুত রাস্তা সংস্কার ও অস্থায়ীভাবে ধুলো নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হোক। নাহলে এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে নানাভাবে।