সংবাদদাতা, পুরাতন মালদহ: মালদহে গঙ্গা ও ফুলহার কয়েকদিন ধরেই বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। পাল্লা দিয়ে জল বেড়েছে মহানন্দা নদীতেও। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে কোনো সুরক্ষা ছাড়াই নৌকা পারাপার চলছে মহানন্দায়। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় চেপে টইটুম্বুর মহানন্দা পেরিয়ে স্কুল যেতে হচ্ছে পড়ুয়াদের। শাকমোহন এলাকায় নৌকায় মহানন্দা পেরিয়ে পুরাতন মালদহ ও ইংলিশবাজার যাতায়াত চলছেই। এতে প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। নৌকাডুবির আশঙ্কা করছেন মহানন্দা পাড়ের মানুষ। তাঁদের বক্তব্য, ছোটো বাচ্চারা অনেকে সাঁতার জানে না। প্রাণ হাতে নিয়েই নৌকায় চেপে তারা স্কুল যাচ্ছে।
শাকমোহন প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিপুল ভট্টাচার্য বলেন, আমাদের স্কুলে মোট ৪৩ জন পড়ুয়া। যার মধ্যে অন্তত ২০ জন ইংলিশবাজারের টেকরা গ্রাম থেকে নৌকায় চেপে স্কুলে আসে। বর্ষায় নদী পারাপারে কোনো সুরক্ষা নেই। নদী পারাপারের সময় কোনো অঘটন ঘটলে বড়ো বিপদ হতে পারে। বিষয়টি নজরে এসেছে মালদহের বিধায়ক গোপালচন্দ্র সাহারও। তিনি বলেন, অনেক পড়ুয়া নদী পার করে স্কুলে যায়। সুরক্ষাবিধি মেনে নৌকা চালানো উচিত। বিষয়টি নিয়ে জেলাশাসক এবং প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলব।
ইংলিশবাজার এবং পুরাতন মালদহ শহরের মাঝ বরাবর বয়ে গিয়েছে মহানন্দা। দুই শহরের বহু মানুষ এখনও নৌকায় যাতায়াত করেন। ইংলিশবাজার ব্লকের টেকরা গ্রামের পড়ুয়ারা পুরাতন মালদহ শহরের শাকমোহন, কালাচাঁদ স্কুলে আসে নৌকায় চেপে। পুরাতন মালদহ শহরের মানুষও বিভিন্ন কাজে ইংলিশবাজার শহরে যায়। স্থানীয়দের বক্তব্য, শুখা মরশুমে নদীতে কম জল থাকে। তখন নৌকায় পারাপারে ততটা ঝুঁকি থাকে না। কিন্তু বর্তমানে মহানন্দায় জল অনেকটাই বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে নৌকায় পারাপার কতটা বিপজ্জনক, তা সহজেই অনুমেয়। শাকমোহন এলাকায় নদীর দু’পাড়ে দড়ি টাঙানো হয়েছে। তার সাহায্য নিয়ে নৌকা চলাচল করছে। নিজস্ব চিত্র