Bartaman Logo
২৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভোট মিটলেও সোনা পাপ্পু অধরাই, বাহিনীর অন্দরেই গুন্ডাদমন শাখার গোয়েন্দাদের ‘সদিচ্ছা’ নিয়েই প্রশ্ন  উঠছে

ভোট পেরিয়ে গেল। কিন্তু কসবার পলাতক সেই সোনা পাপ্পুর নাগালই পেল না কলকাতা পুলিশের গুন্ডাদমন শাখার গোয়েন্দারা! এবার আর আমজনতা নয়।

ভোট মিটলেও সোনা পাপ্পু অধরাই, বাহিনীর অন্দরেই গুন্ডাদমন শাখার গোয়েন্দাদের ‘সদিচ্ছা’ নিয়েই প্রশ্ন  উঠছে
  • ২ মে, ২০২৬ ০৯:০৫
Prefer us on Google

সুজিত ভৌমিক, কলকাতা: ভোট পেরিয়ে গেল। কিন্তু কসবার পলাতক সেই সোনা পাপ্পুর নাগালই পেল না কলকাতা পুলিশের গুন্ডাদমন শাখার গোয়েন্দারা! এবার আর আমজনতা নয়। গুন্ডাদমন শাখার গোয়েন্দাদের দক্ষতা, সোর্স-নেটওয়ার্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠছে খোদ কলকাতা পুলিশের অন্দরেই। বাহিনীর একাংশ মানতেই নারাজ, লালবাজারের গুন্ডাদমন শাখার গোয়েন্দারা চাইলে সোনা পাপ্পুর মতো একজন ‘পাড়ার গুন্ডা’কে গ্রেপ্তার করতে পারেন না। বাহিনী একাংশ গুন্ডাদমন শাখার গোয়েন্দাদের ‘সদিচ্ছা’ নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন। দেড়শ বছরের প্রাচীন কলকাতা পুলিশের মতো একটা বাহিনীর ক্ষেত্রে আদৌও কতটা সম্মানজনক তা নিয়ে গুঞ্জন চলছে বাহিনীর অন্দরে।

Advertisement

চলতি বছরের  ১ ফেব্রুয়ারি সিন্ডিকেট কারবার, বেআইনি নির্মাণকে কেন্দ্র করে রবীন্দ্র সরোবর থানার কাঁকুলিয়া রোডে সোনা পাপ্পুর গ্যাংয়ের দুষ্কৃতীরা গুলি-বোমা ছুঁড়ে কার্যত তান্ডব চালায়। তারপর থেকেই পলাতক সোনা পাপ্পু। হামলার ঘটনার পর ৩ মাস পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু সোনা পাপ্পুকে গ্রেপ্তারই করতে পারল না লালবাজার। অথচ, এরমাঝে দু’-দুবার সোশাল মিডিয়াতে ‘লাইভ’ করে ভোটের মুখে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেখা গিয়েছে তাকে। যা লালবাজারের গোয়েন্দাদের অস্বস্তি বাড়ানোর পক্ষে যথেষ্ট।

কে এই সোনা পাপ্পু? আদতে কসবার বাসিন্দা। কসবা, গড়িয়াহাট থানার ‘রাফ রেজিস্টারে বা গুন্ডাদের নামের তালিকায় ওপরের সারিতে থাকা একটি নাম। আসল নাম বিশ্বজিৎ পোদ্দার। ডাকনাম ছিল পাপ্পু। পারিবারিক সূত্রে সোনার দোকান রয়েছে। সেই সুবাদেই লোকমুখে এলাকায় তার নাম হয়ে যায় সোনা পাপ্পু। তিলজলা, কসবা, আনন্দপুর, বালিগঞ্জ, গড়িয়াহাট, রবীন্দ্র সরোবর এলাকায় তার গতিবিধি। প্রথম দিকে কসবা-তপসিয়া এলাকার এক বর্ষীয়ান রাজনৈতিক নেতার ঘনিষ্ঠ ছিল সে। বর্তমানে রাসবিহারী এলাকার এক দাপুটে নেতার ছত্রছায়ায় রয়েছে সে। 

এহেন সোনা পাপ্পুর অদৃশ্য অঙুলি হেলনে চলে কলকাতার বেশ কয়েকটি থানার দৈনন্দিন কাজকর্ম। সোনা পাপ্পুর নির্মাণ ব্যবসাতে কলকাতা পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত এবং বর্তমান পুলিশ অফিসারদের অনেকের কালো টাকা খাটে। সেই সুবাদেই সোনা পাপ্পুর  থেকে কয়েক লাখ টাকা মাসোহারা পান কলকাতা পুলিশের অনেক বাঘা বাঘা অফিসার। তাই নির্বাচন কমিশনের হাজার চাপ উপেক্ষা করেও, সাসপেন্ড হওয়া বা গুন্ডাদমন শাখা থেকে পদচ্যুত হওয়াকে গৌরবের মনে করেন বেশ কয়েকজন পুলিশ অফিসার। তাই কমিশনের হাজারও চাপ থাকা সত্বেও  ৯০ দিনেও সোনা পাপ্পুর টিকিও ছুঁতে পারে না লালবাজার।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ