Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নেপালের পরিস্থিতি শান্ত হতে শুরু করলেও উদ্বেগ কমছে না ঝাড়গ্রামের হিমাল ছেত্রীর

নেপালের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে। কারফিউ শিথিল হয়েছে। সড়কে সেনাবাহিনীর উপস্থিতিও কমেছে। নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন সে দেশের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কারকি।

নেপালের পরিস্থিতি শান্ত হতে শুরু করলেও উদ্বেগ কমছে না ঝাড়গ্রামের হিমাল ছেত্রীর
  • ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: নেপালের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে। কারফিউ শিথিল হয়েছে। সড়কে সেনাবাহিনীর উপস্থিতিও কমেছে। নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন সে দেশের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কারকি। দেশটির জাতীয় নির্বাচনের তারিখও ঘোষণা করা হয়েছে। তবে তা সত্ত্বেও উদ্বেগ কমেনি ঝাড়গ্রামের বাসিন্দা হিমাল ছেত্রীর। নেপালে থাকা তিন পিসির সঙ্গে  নিয়মিত ফোনে যোগাযোগ রাখছেন। 

Advertisement

জেন জি প্রজন্মের তরুণদের বিক্ষোভের জেরে নেপাল অশান্ত হয়ে উঠেছিল। ঝাড়গ্রাম শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হিমাল ছেত্রীর পরিবারে তার আঁচ এসে পড়েছিল। নেপালের খবর দেখতে মোবাইল, টিভির স্ক্রিনে ঘনঘন চোখ রাখছিলেন। ছোটপিসি নেপালের কাঠমান্ডু শহরে থাকেন। বড় ও মেজো  পিসি থাকেন নেপালের মহোত্তোরী জেলার পাটা গ্ৰামে। প্রতিবছর নিয়ম করে কাঠমান্ডু যান। নেপালে হঠাৎ করে অশান্তি শুরুর কারণ বুঝতে পারছেন না। প্রাণঘাতী আন্দোলনকে মেনে নিতে পারছেন। আন্দোলনে তরতাজা তরুণদের প্রাণ চলে গিয়েছে। ঝাড়গ্রাম শহরে দীর্ঘ সময় ধরে হিমাল ছেত্রীর পরিবারের বসবাস। গত শতকের পঞ্চাশের দশকে হিমালবাবুর দাদু পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণায় চলে আসেন। সেইসময় নেপালের অনেক মানুষ কাজের সন্ধানে পশ্চিম মেদিনীপুরে এসেছিলেন। পরবর্তীতে তাঁরা দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়েন। হিমালবাবুর বাবা রাম বাহাদুর ছেত্রী গড়বেতায় সেচদপ্তরে কাজ করতেন। গড়বেতা থেকে বদলি হয়ে ঝাড়গ্ৰামে চলে আসেন। তারপর থেকে এই জেলার স্থায়ী  বাসিন্দা হয়ে যান। নেপালে থাকা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। হিমালবাবু বলেন, বাংলায় আমার জন্ম হয়েছে। আমার মা বাঙালি। নেপালি ও বাঙালি সংস্কৃতির মধ্যেই বড় হয়ে উঠেছি। হিমালয়ের নামেই  বাবা আমার নামকরণ করছিলেন। নেপাল থেকে দাদু চলে এলেও পাহাড়ী ছোট্ট দেশটির সঙ্গে আমাদের আত্মিক যোগ রয়েছে। কাঠামান্ডু শহরে ছোট পিসির বাড়িতে স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে দু' বছর আগে গিয়েছিলাম। প্রাণঘাতী এমন আন্দোলনের কোনও কিছুই দেখিনি। হিংসাত্মক এই আন্দোলন কোনওভাবেই অভিপ্রেত নয়। আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়লে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি। পিসিদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ রেখে চলেছি। বাড়ির ছোটরা যাতে বাইরে না যায় তা নিয়েও সাবধান করেছি। উদ্বেগের মধ্যেই রয়েছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ