Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তিনটি ঘরে চলছে পাঁচটি শ্রেণির ক্লাস, এগরার স্কুল থেকে পুলিস ক্যাম্প উঠলেও এখনও তালাবন্ধ হয়ে ঘর

তিনটি ঘরে চলছে পাঁচটি শ্রেণির ক্লাস, এগরার স্কুল থেকে পুলিস ক্যাম্প উঠলেও এখনও তালাবন্ধ হয়ে ঘর
  • ৩১ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ২০২১ সাল থেকে এগরা-২ ব্লকে ধলগোদা প্রাইমারি স্কুলের একটি ক্লাসরুম দখল করে চলছিল পুলিস ক্যাম্প। ১০দিন আগে এগরা থানার অধীন ওই ক্যাম্প গোটালেও বন্ধ ক্লাসরুমের চাবি হস্তান্তর করেনি পুলিস। অগত্যা তিনটি ক্লাসরুমেই পাঁচটি শ্রেণির পঠনপাঠন চলছে। এই অবস্থায় অবর বিদ্যালয় পরিদর্শককে বিষয়টি নিয়ে নালিশ করলেন স্কুলের টিচার ইন-চার্জ তপজ্যোতি পতি। এমনিতেই স্কুলে পুলিস ক্যাম্প থাকায় গত চার বছর শ্রেণিকক্ষের সমস্যায় ভুক্তভোগী স্কুল। এখন ক্যাম্প গোটানোর পরও সেই রুম তালাবন্ধ থাকায় সমস্যায় পড়ুয়া ও শিক্ষকরা। আগামী বছর স্কুলে পঞ্চম শ্রেণির পঠনপাঠন শুরু হওয়ার কথা। তার আগে ওই রুম না পেলে বিরাট সমস্যা হবে বলে স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি।

Advertisement

এগরা-২ ব্লকের অন্তর্গত বাথুয়াড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ধলগোদা প্রাইমারি স্কুলে মোট পড়ুয়া সংখ্যা ৬২। এখানে তিনজন শিক্ষক আছেন। সকালে ওই স্কুলে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র চলে। খাতায় কলমে ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে কচিকাঁচার সংখ্যা ৬৪, অন্তঃসত্ত্বা মায়ের সংখ্যা ১১। কিন্তু, সকালে ওই কেন্দ্রে মাত্র এক থেকে দু’জন খুদে হাজির হয়। ২০২৩ সালে ওই কেন্দ্রের অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী মীনা মাইতি দাস মারা যান। তারপর থেকে কোনও কর্মী নেই। এখন অঙ্গনওয়াড়ি সহায়িকা রীতা মণ্ডল খিচুড়ি রান্না করে অভিভাবকদের হাতে তুলে দেন। গ্রামবাসীদের কারও কারও বক্তব্য, স্কুলে পুলিস ক্যাম্প থাকায় কচিকাঁচারা আসতে ভয় পায়। তাছাড়া, কর্মী না থাকায় পড়াশোনা হয় না। 
ওই প্রাইমারি স্কুলে মোট চারটি রুম। তারমধ্যে একটি রুমে ২০২১ সাল থেকে পুলিস ক্যাম্প চলছিল। এগরা থানা থেকে ওই এলাকার দূরত্ব ৩০ কিলোমিটার। ২০১৮ সালে পঞ্চায়েত এবং ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটের সময় থেকেই কাঁথি-৩ ব্লকের ভাজাচাউলি সংলগ্ন বাথুয়াড়ি পঞ্চায়েতের বিভিন্ন গ্রাম রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর ২০২১ সালে ধলগোদা প্রাইমারি স্কুলের একটি রুম দখল করে শুরু হয় পুলিস ক্যাম্প।  চার-পাঁচজন পুলিস কর্মী থাকতেন। এদিকে, স্কুলের পর্যাপ্ত রুম না থাকায় প্রি-প্রাইমারি থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত মোট পাঁচটি ক্লাস করানো হচ্ছে তিনটি রুমে। পুলিস ক্যাম্প অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ায় ওই রুমের দখল পেতে টিআইসি বহুবার অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক অফিসে চিঠি দিয়েছেন। থানার পুলিস অফিসারদের কাছেও এনিয়ে আবেদন করেছেন।
গত ২০ মার্চ জেলা পুলিসের নির্দেশে ওই ক্যাম্প গুটিয়ে ফেলে এগরা থানা। সেখানকার পুলিস কর্মীরা থানায় ফিরে যান। কিন্তু, যাওয়ার সময় ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহৃত রুমে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন পুলিস কর্মীরা। সেই রুমের চাবি পুলিসের জিম্মায় রয়েছে। এখন সেই রুমের দখল কীভাবে পাওয়া যাবে তানিয়ে অথৈ জলে স্কুল কর্তৃপক্ষ। স্কুলের টিচার ইন-চার্জ তপজ্যোতিবাবু বলেন, গত ১০দিন হল এই ক্যাম্প বন্ধ। পুলিস কর্মীরা এখান থেকে চলে গিয়েছেন। যদিও ওই শ্রেণিকক্ষ বন্ধ অবস্থায় আছে। সেই চাবিও আমাদের হস্তান্তর করা হয়নি। 
দক্ষিণ ধলগোদা গ্রামের বাসিন্দা তপন মণ্ডল বলেন, ভাজাচাউলি সংলগ্ন এই এলাকা রাজনৈতিকভাবে উত্তেজনাপ্রবণ। ভোট এলেই অশান্তি হয়। এখানে পাকাপাকিভাবে একটা পুলিস ক্যাম্প প্রয়োজন। স্কুলঘর ছেড়ে একটা বিল্ডিং বানিয়ে সেখানে ক্যাম্প চালু হলে ভালো হয়।
এগরা থানার আইসি অরুণকুমার খান বলেন, ধলগোদা প্রাইমারি স্কুলের ওই ক্যাম্প তুলে নেওয়া হয়েছে। কিছু জিনিসপত্র থাকায় তালা দেওয়া আছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের চাবির প্রয়োজন হলে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি আমাদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ