সোমেন পাল, গঙ্গারামপুর: নতুন বছরের শুরুতে তীব্র গরমে গঙ্গারামপুরের ক্ষীর দই ও সাদা দই বাজিমাত করবে। তবে গঙ্গারামপুরের দই পাতে পড়লেও দেখা মিলবে না বাংলাদেশের নোনা ইলিশের। আরব সাগরের হিমায়িত ইলিশই ভরসা এবারের নববর্ষে।
সোমেন পাল, গঙ্গারামপুর: নতুন বছরের শুরুতে তীব্র গরমে গঙ্গারামপুরের ক্ষীর দই ও সাদা দই বাজিমাত করবে। তবে গঙ্গারামপুরের দই পাতে পড়লেও দেখা মিলবে না বাংলাদেশের নোনা ইলিশের। আরব সাগরের হিমায়িত ইলিশই ভরসা এবারের নববর্ষে।
উৎসব হোক বা সামাজিক অনুষ্ঠান - খাওয়াদাওয়ায় এগিয়ে বাঙালি। বাঙালির নববর্ষ মানেই হরেক রকম পদে খাওয়াদাওয়া। তবে এবারে বাংলার নতুন বছরের শুরুতে তীব্র গরম পড়ে যাওয়ায় খাবার নিয়ে অনেকেই সচেতন। তবে নববর্ষে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাবাসীর শেষ পাতে ক্ষীর দই তো চাইই। এবারে তীব্র গরমের কথা মাথায় রেখে গঙ্গারামপুরের দই প্রস্তুতকারকরা হালকা ক্ষীরের সাদা দই তৈরি করছেন।
প্রিয়জন, আত্মীয়কে নববর্ষে উপহার পাঠাতে অনেকেই গঙ্গারামপুরের মিষ্টির দোকানে দোকানে ক্ষীরদইয়ের অর্ডার দিয়েছেন। গঙ্গারামপুরের নয়াবাজার এলাকায় দই প্রস্তুতকারকরা এবারে প্রতিবেশী রাজ্য বিহার ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে অর্ডার পেয়েছেন। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে উত্তরবঙ্গের জেলায় জেলায় আরব সাগরের ইলিশ পৌঁছে গিয়েছে।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় মাছের আড়ত ও পাইকারি বাজার। গঙ্গারামপুরে মাছ সংরক্ষণের জন্য একটি বিশাল হিমঘর থাকায় শহরের মৎস্য ব্যবসায়ীরা জেলা ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় মাছ বিক্রি করেন। মাছ ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, এবারে নববর্ষের আগেই গঙ্গারামপুরের হিমঘরে এসেছে আরব সাগরের ইলিশ। তা উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় প্রতিদিন যাচ্ছে। পাইকারি বাজারে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ১ কেজি ও তার বেশি ওজনের ইলিশ ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরো বাজারে ১৪০০-১৫০০ টাকা কেজি।
গঙ্গারামপুরের দই প্রস্তুতকারক যোগেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, বছরের প্রত্যেকদিন আমাদের দইয়ের চাহিদা থাকে। জেলা ও জেলার বাইরে যায়। উৎসবের মরশুমে আরও বেশি অর্ডার আসে।
গঙ্গারামপুরের মাছের ব্যবসায়ী হরিলাল হালদার বলেন, বাংলাদেশের ইলিশ আসছে না। হিমঘরের ইলিশ দিয়ে নতুন বছরের খাওয়া দাওয়া সারতে হবে বাঙালিকে। আমরা ডায়মন্ড হারবারের ও আরব সাগরের ইলিশ জেলায় নিয়ে এসেছি। সেই মাছই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে।