বিশেষ সংবাদদাতা, শ্রীনগর: খাসির মাংসের প্রতি কাশ্মীরিদের ভালোবাসা গোটা দেশেই সুবিদিত। সরকারি তথ্য বলছে, জম্মু ও কাশ্মীরে গত তিন বছরে ভেড়ার মাংসের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। মুরগির মাংসের চাহিদাও রয়েছে। তবে খাসির মাংসের জনপ্রিয়তা টলানো যায়নি।
তথ্য বলছে, ২০২২-২৩ সালে জম্মু-কাশ্মীরে ১২ লক্ষ ৪৭ হাজার ভেড়া জবাই করা হয়েছিল। ২০২৩-২৪ সালে এই সংখ্যাটা ছিল ১৩ লক্ষ ৪৬ হাজার। ২০২৪-২৫ সালে সংখ্যাটা দাঁড়ায় ১৪ লক্ষ ৩ হাজারে। তবে এই বৃদ্ধি খাসির মাংসের জনপ্রিয়তার ধারেকাছেও নেই। ২০২২-২৩ সালে ৭ লক্ষ ৫ হাজার ১৮০টি খাসি জবাই করা হয়েছিল। পরের দু’বছরে সেই পরিসংখ্যান দাঁড়িয়েছে ৮ লক্ষ ১৮ হাজার ১৩০ এবং ৭ লক্ষ ৪২ হাজার ৬৮০টি। তবে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন অনেকটাই কম। বছরে সাড়ে ৫৪ হাজার টন খাসির মাংসের চাহিদা রয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরে। তবে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটি মাত্র ৩৭ হাজার টনই উৎপাদন করতে পারে। চাহিদা ও জোগানের এই পার্থক্য পূরণ করার জন্য মূলত রাজস্থান, হরিয়ানা, গুজরাত ও উত্তরপ্রদেশ থেকে প্রায় ১৪ লক্ষ ছাগল ও ভেড়া আমদানি করতে হয়।
শ্রীনগরের মাংস বিক্রেতা ফারুখ আহমেদ ভাট বলেছেন, ‘সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাসে মাংসের চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। ওই সময়ে বিয়ের মরশুমের পাশাপাশি একাধিক উৎসব থাকে। স্থানীয় উৎপাদন এই চাহিদা মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত নয়। তাই অন্য রাজ্য থেকে গবাদি পশু আনতে হয়। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় খাসির মাংসের দামও থাকে অনেকটা বেশি। তাও খদ্দেররা খাসির মাংসকেই প্রাধান্য দেয়।’