প্রতি ৬৮ সেকেন্ডে একটি সরকার বিরোধী পোস্ট ব্লক, জেন জি আন্দোলন পর্বের আরটিআই রিপোর্ট
  • ১৯ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: মোদি-শাহ জমানায় গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধীরা। কিন্তু এবার দেশজুড়ে জেন জি আন্দোলন স্তিমিত হতে না হতেই সামনে এল সমাজমাধ্যমে সরকার বিরোধী পোস্ট ঘিরে ফতোয়ার রক্তচক্ষু! তথ্য জানার অধিকার (আরটিআই) আইনের অধীনে এব্যাপারে প্রশ্ন করেছিল একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম। জবাবে সরকারিভাবেই জানানো হয়েছে— গত মার্চ থেকে জুলাইয়ের মধ্যে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাকে প্রতি ৬৮ সেকেন্ডে গড়ে একটি করে অনলাইন কনটেন্ট ব্লক করার নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্রের মোদি সরকার। পাঁচ মাসের ওই সময়সীমায় প্রায় ১ লক্ষ ৯৫ হাজার কনটেন্ট ব্লক করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ঠিক এই সময়েই নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে জেন জি বিক্ষোভে উত্তাল হয়েছিল গোটা দেশ। যন্তরমন্তরে বিক্ষোভ পর্বে ককরোচ জনতা পার্টির সদস্যদের পাশাপাশি বহু আন্দোলনকারী ও একাধিক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের পোস্ট ব্লক করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছিল। বিরোধীদের দাবি, সরকার বিরোধী পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়া থেকে মুছে দিতেই সরকারিভাবে এই পদক্ষেপ নিয়েছিল গেরুয়া শিবির। এই ইস্যুতে মোদি সরকারের সমালোচনায় সরব হয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, ‘প্রত্যেক ভারতীয়ের কথা বলার, প্রশ্ন তোলার ও ভিন্নমত পোষণের গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। তার উপরে মোদি সরকার নির্লজ্জ ও সুপরিকল্পিত আক্রমণ চালিয়েছে। মাত্র পাঁচমাসে ১ লাখ ৯৫ হাজার ‘ব্লকিং অর্ডার’ দেওয়া হয়েছে। আর সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সেই সব শিক্ষার্থী ও তরুণ ভারতীয়দের বিরুদ্ধে, যাঁরা পরীক্ষার কারচুপি নিয়ে সরকারের কাছে জবাব চাইছিলেন।’

Advertisement

নিটের প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তরমন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন শুরু হয়েছিল গত জুনে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পর, গত ২৫ জুলাই সেই আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। আরটিআই তথ্যে দেখা যাচ্ছে, জুন-জুলাই মাসে দেশজুড়ে জেন জি আন্দোলন মাথাচাড়া দিতেই ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবে পোস্ট বা ছবি-ভিডিয়ো ব্লক করার নির্দেশ বাড়তে থাকে। একাধিক সরকারি সংস্থা ও মন্ত্রকের তরফে এনিয়ে সবচেয়ে বেশি নির্দেশ পাঠানো হয়েছে মেটার মালিকানাধীন ইনস্টাগ্রামকে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ফেসবুক। কারণ, জেন জি’র পাশাপাশি জেন ওয়াই এবং এক্স মূলত ইনস্টাগ্রাম বেশি ব্যবহার করে। জানা গিয়েছে, গত পাঁচ মাসে প্রায় ১ লক্ষ কনটেন্ট ব্লক করার নির্দেশ পেয়েছে ইনস্টাগ্রাম। ফেসবুকের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা ৮০ হাজার এবং ইউটিউবে প্রায় ১৫ হাজার। কনটেন্ট ব্লক করার জন্য এহেন নির্দেশগুলির বেশিরভাগই পাঠানো হয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগ পোর্টালের মাধ্যমে। যদিও কোন মাসে কত কনটেন্ট ব্লক করতে বলা হয়েছিল, সেই সংক্রান্ত কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। 
পোস্ট ব্লক সংক্রান্ত নির্দেশ নিয়ে খাড়্গের আক্রমণ, ‘এখন কোনো কনটেন্ট ক্রিয়েটর, সাংবাদিক বা সাধারণ মানুষ যদি সরকারের সমালোচনা করে কিছু পোস্ট করেন, সঙ্গে সঙ্গে তা সরিয়ে ফেলা হয়। হুমকি দেওয়া হয়। এফআইআরের নোটিস পাঠানো হয়। অথচ শাসক দলের অন্ধভক্তরা মহিলাদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করে, ধর্ষণের হুমকি দেয়। অথচ তাদের আইনের মুখে পড়তে হয় না। একইসুরে কংগ্রেস নেত্রী সুপ্রিয়া শ্রীনেত বলেন, ‘জেন জিকে এত ভয় করেন মোদি?’