


মঙ্গল ঘোষ, পুরাতন মালদহ: পুরাতন মালদহ শহরে ৭ এবং ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে ১ হাজার দু’শোর বেশি ভোটারের নাম বাতিল হয়েছে। যার সিংহভাগই হিন্দু সম্প্রদায়ের। ভোটাধিকার চলে যাওয়ায় ভিটেমাটি হারানোর চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা। সরকারি অন্যান্য সুযোগ সুবিধা থেকেও কি পরবর্তীতে বঞ্চিত হবেন তাঁরা? ভোটের আগে এলাকার মোড়ে মোড়ে এনিয়ে আলোচনা চলছে।
তৃণমূল এই মানুষদের পাশে দাঁড়ালেও বিজেপির দেখা নেই বলে দাবি ডিলিটেড ভোটারদের। নাম বাদ পড়ায় ভোটের মুখে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন শান্তি সূত্রধর। ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে তাঁর বাড়ি। শুনানি কেন্দ্রে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাতিল হওয়ায় হতাশ তিনি। তাঁর আক্ষেপ, ১৯৮৩ সালের জমির দলিল রয়েছে। তবুও আমার নাম নেই। অনেকেই বলেছিল হিন্দুদের নাম বাদ পড়বে না। তাহলে আমার নাম বাদ পড়ল কেন?
বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে ডিলিটেড ভোটাররা বলছেন, তৃণমূল এসে খোঁজখবর নিয়েছে। ট্রাইবুনালে আবেদন করার কথা বলেছে তারা। অন্য দল কোনো খোঁজ নেয়নি।
শহরের ৭ এবং ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে ১১৮, ১২১, ১২২, ১২৫, ১২৬ সহ ৯ টি বুথ রয়েছে। এসআইআরে ওই বুথগুলিতে বারোশোর বেশি ভোটারের নাম বাদ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এনিয়ে প্রথম থেকে সুর চড়িয়েছে তৃণমূল। ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বিশ্বজিৎ হালদার বলেছেন, যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁরা প্রতিদিন আমার বাড়িতে ভিড় করছেন। নিজেদের অসহায়তার কথা বলছেন। এর আগে আমরা মানুষকে নিয়ে আন্দোলনে বসেছিলাম। এবারও আমরা মানুষকে সঠিক পরামর্শ দিচ্ছি।
তৃণমূল কাউন্সিলারদের তোপ, মানুষকে বিপদে ফেলে বিজেপি এখন হাত গুটিয়ে রয়েছে। কিছু করছে না। ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তৃণমূলের জেলা সহ সভাপতি নবরঞ্জন সিনহা বলেন, সব বিজেপির ভাঁওতা। হিন্দুরা ওই ওয়ার্ডে বেশি বাদ পড়েছে। মানুষ ঠান্ডা মাথায় ভাবুক।
পুরাতন মালদহের বিজেপির নগর মণ্ডল সাধারণ সম্পাদক বিকাশ সরকার বলেন, যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, আমরা তাঁদের পাশে আছি। সব এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি। আমরা ট্রাইবুনালে আবেদনের পরামর্শ দিচ্ছি। তারপরও নাম না উঠলে সিএএতে আবেদনের কথা বলা হচ্ছে।
তৃণমূলের তোপ, ভোটাধিকার বাতিল করে এখন নাগরিকত্ব দেওয়ার টোপ দিচ্ছে বিজেপি।