নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: বিজেপি সরকারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র আনুষ্ঠানিক সূচনা হল বুধবার। প্রথম পর্যায়ে নদীয়া জেলার প্রায় ২ লক্ষ ৬০ হাজার মহিলার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তিন হাজার টাকা করে পাঠানো হয়েছে। জেলাজুড়ে মোট দুই লক্ষ ৫৯ হাজার ৯৫৫ জন উপভোক্তা এই প্রকল্পের টাকা পেয়েছেন। রাজ্যের মধ্যে নদীয়া জেলায় সর্বাধিক মহিলা এই সুবিধা পেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা, যেখানে ২ লক্ষ ১৯ হাজার ৩৭৩ জন এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা। এই জেলায় দুই লক্ষ ১৭ হাজার ৮৫৬ জন মহিলা এই সুবিধা পেয়েছেন।
বুধবার কৃষ্ণনগর রবীন্দ্রভবনে সদর মহকুমার অন্তর্গত কৃষ্ণনগর-১-২ ব্লক এবং কৃষ্ণনগর পুরসভাকে নিয়ে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক শ্রীকান্ত পল্লি, অন্যান্য আধিকারিক, কৃষ্ণনগর উত্তর ও দক্ষিণের বিধায়ক তারকনাথ চট্টোপাধ্যায় এবং সাধন ঘোষ। যদিও সরকারি এই অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি নদীয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি তারান্নুম সুলতানা মিরকে।
এদিনের অনুষ্ঠানে কৃষ্ণনগর-১-২ ব্লক এবং কৃষ্ণনগর পুরসভার মোট ৩০০ জন উপভোক্তার হাতে প্রতীকীভাবে প্রকল্পের অর্থ তুলে দেওয়া হয়। একইভাবে জেলার প্রতিটি ব্লকেই পৃথক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে ১০০ থেকে ২০০ জন উপভোক্তার হাতে প্রতীকীভাবে অর্থ প্রদান করা হয়েছে।
প্রশাসনের একাংশের মতে, শুধু আর্থিক সহায়তা প্রদান নয়, অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন প্রক্রিয়ায় মহিলাদের উৎসাহিত করাও এই কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত ১২ পাতার আবেদনপত্র পূরণ করতে গিয়ে বহু মহিলার মধ্যে অনীহা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে প্রথম কিস্তির অর্থ প্রদান প্রকল্পটির প্রতি আগ্রহ ও আস্থা বৃদ্ধি করতে সহায়ক হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।