নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মহাকরণের ঠিক উল্টোদিকে ফুটপাতে বসার সমস্ত বেঞ্চ ভেঙে বিপজ্জনক অবস্থায়। কারুকার্য করা লোহার উপর কাঠ দিয়ে তৈরি বেঞ্চগুলি। কিন্তু প্রায় সব বেঞ্চেরই কাঠ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। কঙ্কালসার চেহারা নিয়ে পড়ে বেঞ্চগুলির লোহা। কোথাও কাঠ একেবারেই উধাও, আবার কোথাও পাশেই মুখ থুবড়ে পড়ে রয়েছে ভাঙা কাঠ। ফলে ওই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী মানুষজন যে একটু বসে বিশ্রাম করবেন, তার কোনো উপায় নেই।
শুধু তাই নয়, এখনও মহাকরণে একাধিক সরকারি দপ্তর রয়েছে। বিভিন্ন মানুষ সেখানে আসে কাজের প্রয়োজনে। তাঁরাও বহু সময় এই বেঞ্চে বসে থাকতেন। এমনকী বিভিন্ন গাড়ির এবং পুলিশের লোকজনকেও দেখা যেত মাঝে মধ্যে বিশ্রাম নিতে এই বেঞ্চে। কিন্তু ওই পথজুড়ে থাকা বেঞ্চগুলির এখন যা অবস্থা, তাতে সেখানে বসার মতো কোনও পরিস্থিতিই নেই।
অনেকেরই বক্তব্য, যেখানে মহাকরণকে নানাভাবে সাজিয়ে তোলার কাজ চলছে, সেখানে বসার বেঞ্চগুলি এভাবে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকাটা বড়ই বেমানন। নানা আলো ও গাছ‑গাছালি দিয়ে ওই পথটি সাজানো রয়েছে। কিন্তু সেখানে বসার বেঞ্চ রক্ষণাবেক্ষণের দিকে কেন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে না, সেটাই বড় প্রশ্ন।
পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে ঢাক‑ঢোল পিটিয়ে ওই চত্বরকে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলা হয়েছিল। তখনই সেখানে ওই লম্বা বেঞ্চগুলি বসানো হয় পথচারীদের জন্য। কিন্তু এখন ওই চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে একদণ্ড দাঁড়ানোর কোনো উপায় নেই। ভনভন করছে মশা‑মাছির দল। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে নোংরা‑আবর্জনা। অথচ কলকাতার অফিসপাড়ার মতো এমন একটি স্থান কেন অবহেলার শিকার, তা নিয়েই বিভিন্ন মহলে উঠেছে নানা অভিযোগ। রাজ্যের এক সরকারি অফিসার বলেন, মহাকরণ ও তার আশপাশ চত্বরকে দ্রুত আরও সাজিয়ে তোলা হবে। বিষয়টি আমাদের নজরে আছে।
কথা হচ্ছিল সুব্রত দাস নামে মাঝবয়সি এক ব্যক্তির সঙ্গে। তিনি অফিসপাড়াতেই একটি বেসরকারি অফিসে ক্লার্কের কাজ করেন। তাঁর কথায়, বেশ কিছুদিন ধরেই লক্ষ্য করছি‑ এই বেঞ্চগুলি ভেঙে পড়ে রয়েছে। বসার মতো অবস্থা কোনোটাই নেই। এই বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। টাইপিস্টের কাজ করা কাজল সাহা নামে আরও এক ব্যক্তি বলেন, ওই চত্বর চারদিকে সাজানো। রয়েছে একাধিক সরকারি অফিস, মেট্রো স্টেশন। অথচ ফুটপাতে থাকা বেঞ্চ এবং এই চত্বর সাফসুতরো করার বিষয়ে কেন কর্তৃপক্ষের এত অনীহা, সেটাই আশ্চর্যের।