ব্রতীন দাস, আমবাড়ি (রাজগঞ্জ): রাজগঞ্জে আমাদের প্রার্থী স্বপ্না বর্মনকে ৪০ হাজারের বেশি ভোটে জেতান। চতুর্থবারের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে ছ’মাসের মধ্যে রাজগঞ্জে দমকল কেন্দ্র হবে। তৈরি হবে নয়া হিমঘর। বুধবার আমবাড়ির সুদামগঞ্জের নির্বাচনি জনসভা থেকে রাজগঞ্জের বাসিন্দাদের উদ্দেশে এমনই বার্তা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে তিনি জানিয়ে দেন, স্বপ্না জিতলে তৃণমূল কংগ্রেসের বিদায়ী বিধায়ক খগেশ্বর রায়ের অসম্পূর্ণ কাজ পূরণ করবেন। আর খগেশ্বরবাবু ‘অভিভাবক’ হয়ে উন্নয়নের সেই কাজ দেখভাল করবেন রাজগঞ্জে।
রেলের চাকরি থেকে অব্যাহতি পেতে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল এশিয়াডে সোনাজয়ী স্বপ্না বর্মনকে। সেই প্রসঙ্গ তুলে এদিন অভিষেক বলেন, স্বপ্না যাতে নমিনেশন দিতে না পারেন, সেজন্য চক্রান্ত করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় সরকার এনওসি দিচ্ছিল না। যার কারণে আমাদের প্রার্থীকে আদালতে পর্যন্ত যেতে হয়েছে।
অভিষেকের দাবি, রাজগঞ্জে তৃণমূল কংগ্রেসের জয় সময়ের অপেক্ষা। ভিড়ে ঠাসা সভাস্থলে মহিলাদের বিপুল সংখ্যক উপস্থিতি সেটাই প্রমাণ করছে। যাঁদের সঙ্গে নারীশক্তি থাকে, তাঁদের কেউ হারাতে পারে না।
অভিষেকের উপস্থিতিতে মঞ্চ থেকে তৃণমূলের রাজগঞ্জের প্রার্থী প্রত্যয়ী স্বপ্না বর্মন বলেন, রাজনীতিতে নতুন হলেও লড়াই কাকে বলে আমি জানি। খেলার মাঠে আমি কখনও হার মানিনি। তবে সেই লড়াই ছিল আমার একার। এখন মানুষের জন্য লড়ছি। আমি নেতা হতে আসিনি। রাজগঞ্জের মেয়ে আমি। যখনই ডাকবেন, ঘরের মেয়ের মতো সবসময় পাশে পাবেন আমাকে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে রাজগঞ্জে কী কাজ হয়েছে, বক্তব্যের শুরুতে তার রিপোর্ট কার্ড তুলে ধরেন তৃণমূল সেনাপতি। বলেন, রাজগঞ্জ বিধানসভা এলাকায় কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী ভবন তৈরি হয়েছে। পাহাড়পুর পঞ্চায়েত এলাকায় হয়েছে জলপাইগুড়ি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। পলিটেকনিক কলেজ করা হয়েছে বেলাকোবায়। দেবী চৌধুরানির মন্দিরের সৌন্দর্যায়নে খরচ করা হয়েছে এক কোটি টাকা। কদমতলা, সওদাভিটা সহ ২০টি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। উন্নত হয়েছে সেচ ব্যবস্থা। বেড়েছে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামো। ক্যানাল মোড়ে ১২ কোটি টাকায় ঝুলন্ত সেতু তৈরির কাজ চলছে। যা আগামী তিনমাসের মধ্যে শেষ হবে।
মমতার সরকারের সামাজিক প্রকল্প তুলে ধরে অভিষেক বলেন, শুধুমাত্র রাজগঞ্জ বিধানসভা এলাকাতেই ৯৯ হাজার ৭৭৮ জন মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন। গত দু’বছরে এই বিধানসভায় বাংলার বাড়ি পেয়েছে দশ হাজার পরিবার। কৃষকবন্ধুর সুবিধা পেয়েছেন ১২ হাজার ১৬২ জন। রূপশ্রী প্রকল্পে আর্থিক সাহায্য পেয়েছেন ১২ হাজার ৯৩৪ জন। পথশ্রী প্রকল্পে রাজগঞ্জে ৪২ কোটি টাকায় ৪০টি রাস্তা তৈরি ও সংস্কার হয়েছে। • রাজগঞ্জে তৃণমূলের সভায় ভিড়। - নিজস্ব চিত্র।