সংবাদদাতা, বালুরঘাট: বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে ২৪ জন ডাক্তার দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছিল স্বাস্থ্যভবন। দু’মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও একজন ডাক্তারও হাসপাতালে আসেননি। এদিকে আরও কয়েকজন ডাক্তার চলে যাচ্ছেন হাসপাতাল থেকে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, চারজন ডাক্তার উচ্চশিক্ষার জন্য হাসপাতাল ছাড়ছেন। তার মধ্যে সিসিইউ থেকেই তিনজন। বাকি আরেকজন এনসিইউ বিভাগের। নতুন ডাক্তার না আসায় এবং এর মাঝেই কয়েকজন চলে যাওয়ায় হাসপাতালের পরিষেবা প্রদানে প্রভাব পড়বে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি বিভাগে ডাক্তার কম থাকায় পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে বালুরঘাটের বাসিন্দাদের মধ্যে।
হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ ডাক্তার শূন্য। চিকিৎসক সঙ্কটে চরম সমস্যায় পড়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সুপার কৃষ্ণেন্দু বিকাশ বাগ বলেন, নতুন করে চারজন চিকিৎসক উচ্চশিক্ষার জন্য হাসপাতাল ছাড়ার আবেদন পেয়েছি। নতুন চিকিৎসক না এলে একটু সমস্যা হবে।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, গত মার্চ মাসের শুরুতেই ২৪ জন ডাক্তার কাজে যোগ দেওয়ার অনুমোদন এসেছিল। প্রসূতি, সার্জেন, অস্থি ও অ্যানাস্থেসিয়া বিভাগে ডাক্তার আসার কথা। ফরেন্সিক বিভাগেও চিকিৎসক আসার কথা। বেশ কয়েক বছর এই বিভাগ চিকিত্সক শূন্য। এতে কেউ খুন হলে বা রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হলে তার দেহ ময়নাতদন্ত করতে সমস্যা হয়। কারণ, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না থাকায় বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে সেই ময়নাতদন্ত হয় না। বাধ্য হয়ে বালুরঘাট থেকে সেই দেহ মালদহে রেফার করতে হয়। এতে মৃতের পরিজনদের হয়রানি বাড়ছে। গত সপ্তাহে এমন দুইটি মৃতদেহ রেফার করায় হাসপাতালে বিক্ষোভ পর্যন্ত হয়।
শিশু বিভাগের চারজন ডাক্তারের মধ্যে তিনজন উচ্চশিক্ষার জন্য বাইরে পড়তে যাচ্ছেন। ফলে এই বিভাগে মাত্র একজন ডাক্তার থাকবেন। ইএনটি বিভাগে একজন ডাক্তার থাকায় সপ্তাহে মাত্র দু’দিন আউটডোর খোলা থাকে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, আগে এই বিভাগের আউটডোর সপ্তাহে চারদিন খোলা থাকত। ডাক্তার কমতে কমতে এখন সপ্তাহে মাত্র দুদিন খোলা হয়। কোনও কারণে একমাত্র ডাক্তার ছুটি নিলে এই বিভাগ পুরোপুরি বন্ধ থাকছে।
হাসপাতালে পর্যাপ্ত ডাক্তার না থাকায় সমস্যায় পড়ছে রোগীরা। পরিষেবা না পেয়ে ক্ষোভ বাড়ছে মানুষের। তাঁরা সবাই ডাক্তার আসার অপেক্ষায়। তবে কবে আসবে ডাক্তার, উত্তর অজানা। যদিও হাসপাতাল সুপারের দাবি, শীঘ্রই ডাক্তার চলে আসবে। ডাক্তার এলেই পরিষেবা প্রায় স্বাভাবিক হয়ে যাবে। - ফাইল চিত্র।