নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সকাল থেকেই আকাশের মুখ গোমড়া। রোদের তেজ কম, কিন্তু ভ্যাপসা গরম। শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর আপেক্ষিক আর্দ্রতাও চরমে। সব মিলিয়ে ঘেমেনেয়ে কাহিল অবস্থা বাঙালির। আবার স্মার্টফোনের অ্যাপ বলছিল, ফিলস লাইক ৪৫ ডিগ্রি। কিন্তু পুজো দোরগোড়ায়। শপিংও ক্লাইম্যাক্সে পৌঁছে গিয়েছে। এখন এসব নিয়ে মাথা ঘামালে চলে? তাই অনেকেই শনি-রবিবারের জন্য অপেক্ষা করতে চাইছেন না। দিনেদুপুরে একদিকে যেমন ঠান্ডাজলে গলা ভিজিয়েই চলেছে তুমুল দরদাম। তেমনই অফিস ফেরত কর্তা-গিন্নি সন্ধ্যা নামতেই ঝাঁপিয়ে পড়েছেন শপিংয়ে।
ব্যবসায়ীদের মন অবশ্য আকাশের মুখ দেখে ‘কু’ ডাকতে শুরু করেছে। হাত পাখায় হাওয়া খেতে খেতে তাঁরা বলছেন, ‘আকাশের অবস্থা তো ভালো নয়। বাজারের শেষ দিকে কি বৃষ্টি ভাসাবে?’ এই প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর বলছে, আগামী ২৫ তারিখ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের উপর প্রভাব ফেলার মতো নিম্নচাপ বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। যা হবে, তার সবটাই ধাক্কা দেবে ওড়িশায়। অর্থাত্ প্রাক পুজোর শহরে এখনই নিম্নচাপের আশঙ্কা নেই। তবে আগামী কয়েকদিন কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু তা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সৃষ্টিকারী নয়। যদিও পুজোর দিনগুলোতে আবহাওয়ার পরিস্থিতি কেমন থাকবে, তা জানার জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষায় থাকতে হবে। বাঙালি অবশ্য এত হিসেবের গভীরে ঢুকতে নারাজ। শপিং করতে আসা ক্রেতাদের স্পষ্ট বক্তব্য, ‘কী হবে পরে দেখব। এখন তো শপিং করে নিই!’ আর বাজার করতে আসা মানেই শপিংয়ের সঙ্গে সংযোগ খাওয়া দাওয়ার। বৃহস্পতিবার ঠিক দুপুরে নিউ মার্কেট চত্বরে দেখা গেল, বাজার করে ক্লান্ত বাঙালি ব্যাগপত্তর হাতেই লাইন দিয়ে বসে পড়েছেন পেটপুজোয়। খেতে খেতে হিসেব কষে নেওয়াও চলছে। সোদপুরের বাসিন্দা অনিমা মিত্র বলছিলেন, ‘হেঁটে হেঁটে কোমর ব্যথা হয়ে গিয়েছে। এবার একটু বসে নিলাম। বাচ্চারা খাওয়া-দাওয়া করে নিক। আজকে এসেছি, আত্মীয়-স্বজনদের জন্য জামাকাপড় কিনতে। আর কী কী কেনা বাকি রইল, সেটাই হিসেব করে নিচ্ছি।’ এদিকে গড়িয়াহাটে দেখা গেল, সক্কাল সক্কাল একঝাঁক তরুণীর ভিড়। তাঁরা বলছেন, ‘পুজোর চারদিন যদি বৃষ্টি হয়! তাই আগে থেকেই বেরব। আজ সক্কাল সক্কাল অ্যাকসেসরিজ কিনতে চলে এসেছি।’ একই চিত্র দেখা গেল হাতিবাগানে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ‘শনি-রবিবার যদি বৃষ্টি না হয়, তাহলে বাজার জমবে ভালো। মহালয়ার জন্য আর কেউ অপেক্ষা করবেন না। এখন তো লোকে ওইদিন থেকেই নতুন জামা পরতে শুরু করে দেয়।’
গরমে ঘেমেনেয়ে এই দোকান থেকে সেই দোকান ঘুরতে কষ্ট হচ্ছে না? এমন প্রশ্ন শপিংজনদের জিজ্ঞেস করতেই প্রথমে উড়ে এল তাচ্ছিল্যের হাসি। তারপর হাতে ধরা ঠান্ডা জলের বোতল দেখিয়ে তাঁরা বললেন, ‘এই তো... গরম লাগছে, গলা ভিজিয়ে নিচ্ছি। বৃষ্টি হলেও ছাতা মাথায় বের হতাম। পুজো এসে গেল। শপিং আর ফেলে রাখা যাবে না।’