Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ডিজিটাল যুগেও তুলির টানে শুভেচ্ছা, হাতে আঁকা গ্রিটিংস কার্ড বিক্রি করেন অমিত

স্মার্টফোনের পর্দায় মুখ গুঁজে থাকা জেন জি যুগে গ্রিটিংস কার্ড গিয়েছে হারিয়ে। এখন কেউ কার্ড দেয় না। ভালোবাসার কথা লেখে না।

ডিজিটাল যুগেও তুলির টানে শুভেচ্ছা, হাতে আঁকা গ্রিটিংস কার্ড বিক্রি করেন অমিত
  • ২ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: স্মার্টফোনের পর্দায় মুখ গুঁজে থাকা জেন জি যুগে গ্রিটিংস কার্ড গিয়েছে হারিয়ে। এখন কেউ কার্ড দেয় না। ভালোবাসার কথা লেখে না। আবেগ এখন সব মোবাইলের পর্দায় ভেসে উঠে মিলিয়ে যায় লহমায়। তবুও কেউ অন্য ছবি আঁকে। মোবাইল সরিয়ে পুরনো জিনিসপত্র ঘাঁটে। পুরনোগুলি সাজিয়ে নতুন করে তোলার চেষ্টা চালায়। যেমন আন্দুলের অমিত ঘোষ। তিনি নিজে হাতে এঁকে গ্রিটিংস কার্ড তৈরি করেন। শুভেচ্ছা জানানোর পুরনো রীতি জিইয়ে রাখতে তুলির রেখাই অস্ত্র তাঁর।

Advertisement

আন্দুলের রাজবাড়ি মাঠ এলাকার থাকেন শিল্পী অমিত ঘোষ। গভর্নমেন্ট আর্ট কলেজ থেকে পাশ করে ২০০০ সালে হাতে আঁকতে শুরু করেছিলেন গ্রিটিংস কার্ড। শিয়ালদহ থেকে হ্যান্ড মেড পেপার কেনেন। তা দিয়ে কার্ড তৈরি করেন। সে কার্ডে কখনও কোনও কবিতার পঙক্তি, কখনও গোলাপের লালচে, কখনও ক্রেতা যা চান, তাই তুলির টানে ফুটিয়ে তোলেন। তাঁর আঁকায় অনুভূতি তৈরি হয় বলেন ক্রেতারা। আর অমিতবাবু বলেন, ‘দিনগুলো ছিল রূপকথার মতো। বাংলা বা ইংরেজি নতুন বছর বা ভ্যালেন্টাইনস ডে’তে ভিড় হতো খুব। বাড়ির পাশের ছোট দোকানে উত্তরপাড়া, শ্রীরামপুর, বললে বিশ্বাস করবেন না, দক্ষিণ কলকাতা থেকেও মানুষ কিনতে আসতেন।’ সে সোনার দিন পঁচিশ বছর পার করে ফেলেছে। স্মার্টফোনের তেপান্তরে নতুন প্রজন্মের ভিড়। তবে হাল ছাড়েননি অমিত। বিশ্বাস করেন, শিল্পমাধ্যম কখনও প্রযুক্তির সঙ্গে লড়াইয়ে হেরে যায় না। প্রযুক্তির বদল হয়। কিন্তু শিল্প চিরকালীন। ফলে এ বছরও ডিজিটাল গ্রিটিংসের ভিড়ে হারিয়ে যাননি যাঁরা, তাঁরা এসেছেন তাঁর দোকানে। কিনেছেন হাতে আঁকা গ্রিটিংস। কলেজ পড়ুয়া ক্রেতারা বলেন, ‘যতই ওয়ালপেপার ফরওয়ার্ড করি না কেন, হাতে আঁকা কার্ডের বিকল্প এখনও নেই।’ নতুন বছরের প্রথমদিনে হুগলি থেকে এসেছিলেন অনেক পুরনো এক ক্রেতা। গলায় নস্টালজিয়া। আবেগ ঢেলে বললেন, ‘কুড়ি বছর আগে স্কুল জীবনে যাঁকে কার্ড দিয়েছিলাম সেই মানুষটি নেই। তবে স্মৃতিগুলো এখনও রয়ে গিয়েছে টাটকা হয়ে।’ এবছর মাত্র কুড়িটার মতো গ্রিটিংস কার্ড বিক্রি হয়েছে। অমিতবাবু তাতেই খুশি। নতুন প্রজন্মের চোখে শিল্পের আলো খুঁজে পেয়েছেন তিনি। এবার সে আলোয় পথ চিনে হাতে আঁকা বিয়ের কার্ডও তৈরি করছেন। হাতে হাত মিলিয়েছেন স্ত্রী অর্চনা ঘোষ। 
যে গ্রিটিংসের ভাঁজে লুকিয়ে থাকত লাজুক হাসি, না বলা কথা, সাহস, প্রেম, আবেগ, দুঃখ, অভিমান। যা মোবাইলে ঢুকে গিয়ে কেজো আর যান্ত্রিক হয়ে গিয়েছে। এবার হাতে এঁকে সে আবেগকে আবার জীবন তুলে দিচ্ছেন অমিত। সে আবেগে ভর করে হয়ত ফেলে আসা প্রেমও জীবন পাচ্ছে ক্রেতাদের।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ