Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শান্তিপূর্ণ নির্বাচনেও কাঁটা হয়ে থাকল বহু ভোটারের ভোট না দিতে পারার আক্ষেপ

মোটের উপর শান্তিপূর্ণভাবে মিটেছে কল্যাণী মহকুমার ভোট (চাকদহ, কল্যাণী ও হরিণঘাটা বিধানসভা কেন্দ্র)। তবে এমন দিনে আক্ষেপ আর অভিমান ঘিরে ধরেছে এই তিন কেন্দ্রের হাজার হাজার নাগিরিককে!

শান্তিপূর্ণ নির্বাচনেও কাঁটা হয়ে থাকল বহু ভোটারের ভোট না দিতে পারার আক্ষেপ
  • ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:০৪

অভিষেক পাল, কল্যাণী: মোটের উপর শান্তিপূর্ণভাবে মিটেছে কল্যাণী মহকুমার ভোট (চাকদহ, কল্যাণী ও হরিণঘাটা বিধানসভা কেন্দ্র)। তবে এমন দিনে আক্ষেপ আর অভিমান ঘিরে ধরেছে এই তিন কেন্দ্রের হাজার হাজার নাগিরিককে! কারণ, বিগত একাধিক নির্বাচনে তাঁরা ভোট দিলেও এবার এসআইআরে ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের নাম বাদ পড়েছে। সেই সঙ্গে তাঁদের তাড়া করছে নাগরিকত্ব হারানোর উদ্বেগ ও আতঙ্ক। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, এসআইআরে শুধু কল্যাণী বিধানসভা এলাকাতেই ৩৬ হাজার ২৭০ জনের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। একইভাবে চাকদহে ২৯ হাজার ৮৩১ এবং হরিণঘাটায় ২৪ হাজার ৫২ জনের নাম ‘ডিলিট’ হয়েছে। সব মিলিয়ে কল্যাণী মহাকুমা এলাকায় বাদ যাওয়া ভোটারের সংখ্যা ৯০ হাজার ১৫৩। ভোট ঘোষণার পর বহু মানুষ জানতে পেরেছেন যে তাঁদের নাম তালিকায় নেই। এই অবস্থায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পেরে হতাশ তাঁরা। নাম বাদ যাওয়া ভোটারদের একাংশের অভিযোগ, যথাযথ কারণ না জানিয়েই তাঁদের নাম নির্বাচন কমিশন বাদ দিয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা তাঁদের। 

Advertisement

এই অবস্থায় যেসব পরিবারের এক বা একাধিক সদস্যের নাম বাদ পড়েছে, সেই পরিবারের বাকি সদস্যদের ভোট কোন দিকে পড়বে, তা নিয়ে অঙ্ক কষছে সব দল। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিষয়টি নির্বাচনের ফলাফলেও প্রভাব ফেলতে পারে। কল্যাণী ব্লকের চর যাত্রাসিদ্ধি গ্ৰামের রমেশ মাহাত, রামপ্রসাদ মাহাতরা বলেন, ‘বাপ-ঠাকুরদার আমল থেকে আমরা এখানে বসবাস করছি। তারপরও আমাদের গ্রামের বহু মানুষের নাম কাটা গিয়েছে। কারণ নিয়েও আমরা ধোঁয়াশায় আছি। ভোট দিতে না পেরে খারাপ লাগছে।’
বিক্ষিপ্ত কয়েকটি ঘটনা ছাড়া চাকদহ, কল্যাণী ও হরিণঘাটা বিধানসভা এলাকায় মোটের উপর শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে ভোটগ্রহণ। সকালের দিকে গয়েশপুরের কাটাগঞ্জ, কল্যাণী এ-৭ ও শিমুরালি এলাকায় একটি করে বুথে ইভিএম খারাপ থাকার অভিযোগ ওঠে। কিছু সময় ভোট গ্রহণ বন্ধ থাকার পর ইভিএম বদলে পুনরায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। এই বিধানসভার গয়েশপুর নির্মল মোড়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ ওঠে বিজেপি প্রার্থী অনুপম বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। ঘটনার প্রতিবাদ জানান স্থানীয় মহিলারা। ওই বিধানসভার সুগুনা পঞ্চায়েতের ৬৫ ও ৬৬ নম্বর বুথের ২০০ মিটারের বাইরে থাকা তৃণমূলের ক্যাম্প ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। তৃণমূলের অভিযোগ, অতিসক্রিয়তা দেখাচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। চাকদহে বিজেপি কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। চাকদহ কলেজের সামনে ৭০ নম্বর বুথের অদূরে দাঁড়িয়েছিলেন বিজেপি কর্মীরা। সেখানেই তৃণমূলের কয়েকজন তাঁদের উপর চড়াও হয় এবং বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। জখম হন বিজেপি কর্মী শ্রীদাম বিশ্বাস। অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল।
কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশ এলাকায় টহল দেয়। কোথাও বড়ো ধরনের অশান্তির খবর মেলেনি। সব মিলিয়ে, একদিকে ভোট থেকে বঞ্চিত হওয়ার আক্ষেপ, অন্যদিকে শান্তিপূর্ণ ভোট—দুই চিত্রই ধরা পড়ল চাকদহ, কল্যাণী ও হরিণঘাটায়।

সম্পর্কিত সংবাদ