সংবাদদাতা, হিলি: ভরা বর্ষাতেও দেখা নেই কাঙ্ক্ষিত ইলিশের। যেটুকু মিলছে তার দামও আকাশছোঁয়া। মরশুমেও খাদ্যরসিকরা মূলত কোল্ড স্টোরেজের ইলিশ দিয়েই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাচ্ছেন। মাছ ব্যবসায়ীদের মতে, এবছর এখনও পর্যন্ত ইলিশের আমদানি কম হওয়ায় দাম অপেক্ষাকৃত বেশি।
বর্ষা এলেই মাছপ্রেমী বাঙালির মনে ইলিশের কথা মনে আসে। ইলিশপ্রেমীদের কথায়, খাবারের মেনুতে সর্ষে ইলিশ, ভাপা ইলিশ কিংবা গরম ভাতের সঙ্গে ভাজা ইলিশ ছাড়া বর্ষার আনন্দ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। বর্ষার মাঝামাঝিতেও এখনো বড়ো সাইজের ইলিশের দেখা মেলেনি। বালুরঘাটের মাছ বাজারে আনা ইলিশের অধিকাংশই ছোটো ও মাঝারি আকারের। যেগুলির বেশিরভাগই ডায়মন্ড হারবারের। ক্রেতাদের মতে, হিমঘরের কিছু ইলিশ পাওয়া গেলেও মরশুমের ইলিশের তুলনায় তার স্বাদ অপেক্ষাকৃত কম। তবে মাছ ব্যবসায়ীদের আশা,আগামী কয়েক সপ্তাহে বাজারে ইলিশের জোগান বাড়তে পারে।
এদিন বাজারে ঘুরে দেখা গেল, বড়ো ইলিশের খোঁজে অনেক ক্রেতাকেই এক দোকান থেকে আরেক দোকানে খোঁজ করতে দেখা গিয়েছে। এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশের পরিমাণ কম থাকায় ৩০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ওজনের মাছে নির্ভর থাকতে হয়েছে। এক ক্রেতা সুতীর্থ অধিকারী জানান, ইলিশের আসল স্বাদ বড়ো মাছেই। কিন্তু এ বছর এখনো বাজারে পছন্দমতো ইলিশ কিনতে পারেননি। যেটুকু মিলছে তার দামও আকাশ ছোঁয়া। তাই গতানুগতিক স্থানীয় রুই, কাতলা কিনে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।
মাছ ব্যবসায়ীদের কথায়, কয়েক বছর আগেও এই বাজারে বর্ষার সময় প্রচুর পরিমাণে বড়ো ইলিশ আসত। আমাদের দেশীয় ইলিশের পাশাপাশি বিদেশ থেকে আমদানি করা ইলিশও বাজারে আসত। ক্রেতারা সেখান থেকে নিজেদের পছন্দমতো মাছ কিনে নেওয়ার সুযোগ পেতেন।
এবার পাইকারি বাজারে বড়ো ইলিশের জোগান কম থাকায় খুচরো মাছ বাজারও তাতে প্রভাবিত হয়েছে। বালুরঘাটের মাছ বিক্রেতা উদয় হালদার বলেন, এবার ভালো সাইজের ইলিশের আমদানি কম।
পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে মাছ কেনার কারণে খুচরো বাজারেও তার দাম বাড়ছে। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার বালুরঘাট মাছ বাজারে তিনশ থেকে আটশো- নয়শো গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি গড়ে ৮০০ থেকে ১,৮০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। তবে মাছ ব্যবসায়ীদের আশা, আগামী কয়েক সপ্তাহে বাজারে ইলিশের জোগান বাড়তে পারে। ইলিশপ্রেমীরাও এখন সেই আশাতে অপেক্ষা করছেন ।