Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ফর্ম জমা না হলেও খসড়া তালিকার পর তোলা যাবে নাম, ২০০২’এর এসআইআরে নাম থাকলে একই এপিক নম্বরে মিলবে ভোটার কার্ড, সিদ্ধান্ত কমিশনের

ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণের পর জমা করতে হবে ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে। বিজ্ঞপ্তির সময়ই তা নির্দিষ্ট করে দিয়েছিল কমিশন। কিন্তু কোনও কারণে এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইনিউমারেশন ফর্ম জমা না করতে পারলে কী হবে? তখনও ভোটার তালিকায় নাম তোলার সুযোগ থাকছে।

ফর্ম জমা না হলেও খসড়া তালিকার পর তোলা যাবে নাম, ২০০২’এর এসআইআরে নাম থাকলে একই এপিক নম্বরে মিলবে ভোটার কার্ড, সিদ্ধান্ত কমিশনের
  • ১৩ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভঙ্কর বসু, কলকাতা: ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণের পর জমা করতে হবে ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে। বিজ্ঞপ্তির সময়ই তা নির্দিষ্ট করে দিয়েছিল কমিশন। কিন্তু কোনও কারণে এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইনিউমারেশন ফর্ম জমা না করতে পারলে কী হবে? তখনও ভোটার তালিকায় নাম তোলার সুযোগ থাকছে। এবার সেটাও স্পষ্ট করছে কমিশন। সেক্ষেত্রে খসড়া তালিকা প্রকাশের পর নাম তোলার জন্য নতুন করে আবেদন জানাতে হবে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে। এখানেই শেষ নয়। কমিশন সূত্রে খবর, নির্ধারিত সময়ে ফর্ম জমা দিতে না পারা সংশ্লিষ্ট ভোটারের নাম যদি শেষ এসআইআর, অর্থাৎ ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় থেকে থাকে, সেক্ষেত্রে তিনি পাবেন একই নম্বরের এপিক। এসআইআরের দ্বিতীয় পর্বে এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। 

Advertisement

কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নির্ধারিত সময়, অর্থাৎ ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে ইনিউমারেশন ফর্ম জমা না করতে পারলে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে খসড়া তালিকা প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ৯ ডিসেম্বর খসড়া তালিকা প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট ভোটার তালিকায় নাম তোলার সুযোগ পাবেন। সেক্ষেত্রে তাঁকে ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করতে হবে। সেই সঙ্গে ওই সংশ্লিষ্ট ভোটারকে একটি ঘোষণাপত্র বা ডিক্লারেশন ফর্ম পূরণ করতে হবে। আর এই ডিক্লারেশন ফর্মেই বিশেষ সুবিধা পাবেন শেষ এসআইআর বা ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা ভোটাররা। ফর্মে প্রথমেই আবেদনকারীকে তাঁর নাম, ফোন নম্বর, বাবার নাম, মায়ের নাম ও উভয়ের এপিক নম্বর উল্লেখ করতে হবে। আর বিশেষ একটি কলামে ২০০২ সালের ভোটার তালিকার তথ্য জানানোর সুযোগ পাবেন আবেদনকারী। আগামী ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। এছাড়া ইনিউমারেশন ফর্মের মতো এই ডিক্লারেশন ফর্মেও সংশ্লিষ্ট ভোটার ২০০২ সালের তালিকায় থাকা এপিক নম্বর, আত্মীয়ের নাম এবং আত্মীয়ের এপিক নম্বর উল্লেখ করতে পারবেন। আর তা করলেই আগের এপিক নম্বরে মিলবে ভোটার কার্ড। যদিও ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকলে তবেই মিলবে এই সুবিধা। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম থাকবে না, বা যাঁরা সেই তথ্য উল্লেখ করবেন না, তাঁরা নতুন ভোটার হিসাবে গণ্য হবেন। সেক্ষেত্রে তাঁরা নতুন নম্বরের এপিক পাবেন বলেই কমিশন সূত্রে খবর। 
বিশেষজ্ঞ মহলের ব্যাখ্যা, বিহার এসআইআর থেকে শিক্ষা নিয়েই এই পদক্ষেপ করেছে কমিশন। বিহারে ইনিউমারেশন পর্বে নথি দেখানো বাধ্যতামূলক ছিল। কাগজ না দেখাতে পারলে সংশ্লিষ্ট ভোটারের নাম খসড়া তালিকা থেকেই বাদ দেওয়া হয়েছিল। সেক্ষেত্রে খসড়া পর্বে নাম তোলার সুযোগ থাকলেও ডিক্লারেশন ফর্মে শেষ এসআইআরের তথ্য জানানোর সুযোগ ছিল না। 
এদিকে, বুধবার রাত পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ৬ কোটি ৮৭ লক্ষ ইনিউমারেশন ফর্ম বিলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর (সিইও অফিস)। শীঘ্রই যাতে এই কাজ শেষ করা যায়, সেকারণে এদিন রাতেই সমস্ত জেলার ডিইও’র সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন সিইও মনোজ আগরওয়াল। জানা যাচ্ছে, ফর্ম বিলি থেকে শুরু করে তা গ্রহণ এবং ডিজিটাইজেশন সংক্রান্ত গোটা প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে। সেক্ষেত্রে ফর্ম বিলি করার কোনও নির্ধারিত সময়সীমা না থাকলেও দ্রুত সেই কাজ শেষ করতে চাইছে কমিশন।

সম্পর্কিত সংবাদ