নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’— শীর্ষক সভা থেকে একেবারে চাঁচাছোলা ভাষায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তৃতায় আগাগোড়া উঠে এসেছে পিসি-ভাইপোর বিরুদ্ধে ক্ষোভ। বৃহস্পতিবারই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকারকে ‘অন্তর্বর্তী’ অ্যাখ্যা দিয়ে ক্ষমতায় ফিরলে পেটোয়া পুলিশ অফিসারদের ‘দেখে’ নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন অভিষেক।
রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শুক্রবার বারুইপুরের সভামঞ্চ থেকে অভিষেককে তাই পালটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন খোদ রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। অভিষেকের নাম না করে আগামী লোকসভা ভোটে তাঁর জামানত জব্দ করার হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, আগামী লোকসভা ভোটে ডায়মন্ডহারবারে দাঁড়ান ভাইপো। আগের ভোটে যে মার্জিনে জিতেছিলেন, তার থেকে একটা বেশি ভোট পেয়ে হারাব। সিপিএমও যদি ভোট দেয়, তাহলেও ওঁর জামানত জব্দ আটকাতে পারবে না। সেটা নিশ্চিত।
বারুইপুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে মমতা তৃণমূলের সেনাপতির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলার আগে এদিন সকালে সল্টলেকে বিজেপি দপ্তরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, যে চ্যালাটা মাল তুলত ক্যামাক স্ট্রিটে, ডায়মন্ডহারবার কোর্টে সব বলে দিয়েছে। তাই ওঁর (অভিষেক) সোডিয়াম-পটাশিয়ামে গোলমাল হয়েছে। বিকালে বারুইপুরের সভায় তিনি বলেন, ২০১৪ সালের পর থেকে এই জেলায় ভোট করতে দেননি ভাইপো। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ভেঙে দিয়েছেন। ভোটের আগে অনেক বড়ো বড়ো
কথা বলেছিলেন, কিন্তু এখন ছ’মাস এখানে ঢুকতেই
পারেননি। এসবের মধ্যেই বড়ো চোরের প্রসঙ্গ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। কটাক্ষের সুরে বলেন, বড়ো চোরও ধরা পড়বে। ধৈর্য ধরুন। ঠিক সময়ে হবে।
ক’দিন আগে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মমতার প্রতি শুভেন্দুর পরামর্শ ছিল, বয়স হয়েছে। ওঁনার আর ভোটে না দাঁড়ানোই ভালো। কিন্তু এদিন সেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে নির্বাচনে ফের দাঁড়ানোর জন্য চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, সাহস থাকলে ফের দাঁড়ান। আবার হারাব। কলকাতায় ঢুকতে পারেন না, তাই দিল্লি যাচ্ছেন। যে কংগ্রেসকে ভেঙে দল গড়েছিলেন, এখন তার পায়ে পড়তে হচ্ছে। তৃণমূলের পরিণতি নিয়েও রসিকতা করতে ছাড়েননি তিনি। বলেন, অন্যান্য রাজ্যে কোনো দল হেরে গেলেও, সেটা টিকে থাকে। কিন্তু এখানে হারার ৯০ দিনের মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের ঝাঁপ বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
স্থানীয় রাজনীতি নিয়েও বেশ কিছু তাৎপর্যপূর্ণ কথা শোনা গিয়েছে শুভেন্দুর ভাষণে। বারুইপুর পুরসভার দুর্নীতি যাঁরা যুক্ত সবাইকে কোমরে দড়ি পড়ানোর কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। পাশাপাশি যেসব জায়গায় সরকারি জমি দখল করা হয়েছে, সব উদ্ধার করে গরিবদের বিশেষ করে এসসি এবং এসটি’দের মধ্যে বিলি করা হবে বলে তিনি জানান। বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লা ও বর্তমান ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক পরেশরাম দাসের নাম। কী ভাবে জীবনতলা ও ক্যানিংয়ে তাঁরা জমি জবরদখল করেছেন, তা মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। ভাষণের শেষ পর্বে মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, রাজ্য সরকার এবার গঙ্গাসাগর মেলাকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যাবেই।



