Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘বন্দি থাকলেও চিকিৎসাটা অন্তত মিলবে’, ভারতে অনুপ্রবেশের কথা স্বীকার করে জেলযাত্রা খুলনার বধূর

অবশেষে তাঁর অভীষ্ট পূরণ হল! আপাতত ভারতের কারাগারেই ঠাঁই হল তাঁর।

‘বন্দি থাকলেও চিকিৎসাটা অন্তত মিলবে’, ভারতে অনুপ্রবেশের কথা স্বীকার করে জেলযাত্রা খুলনার বধূর
  • ২৩ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত বসু, কলকাতা: বাংলাদেশে হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরে যে চিকিৎসা পাওয়া যায়নি, ভারতের কোনও জেলে বন্দি থাকলেও স্বাভাবিক নিয়মে মিলবে সেই চিকিৎসা! এই ভরসাতেই বৈধ নথিপত্র  ছাড়া সীমান্ত টপকে ভারতে ঢুকে পড়েছিলেন বাংলাদেশের খুলনার দৌলতপুরের গৃহবধূ ঝর্ণা শেখ। অবশেষে তাঁর অভীষ্ট পূরণ হল! আপাতত ভারতের কারাগারেই ঠাঁই হল তাঁর। তাই বিচারক যখন তাঁকে ভারতে অনুপ্রবেশের জন্য সাজা শোনাচ্ছেন, তখন ঝর্ণাদেবীর মধ্যে অনুশোচনা বা শোকের ছাপও দেখা গেল না। 

Advertisement

ঘটনা হল, দৌলতপুরের বাসিন্দা ৩৯ বছরের গৃহবধূ ঝর্ণা শেখ তাঁর স্বামী সহ আত্মীয়দের পরামর্শে ভারতে অনুপ্রবেশ করেন। আদালতে ওই বধূর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, এভাবে ভারতে ঢুকে ধরা পড়লে কারাবাস অবধারিত। সেক্ষেত্রে ভারতের জেলে থাকাকালীন সরকারি নিয়ম অনুযায়ীই তাঁর চিকিৎসা হবে। আর ধরা না পড়লে ভারতে থাকা তাঁদের আত্মীয়স্বজন তাঁকে ডাক্তার দেখানোর ব্যবস্থা করবে। সেই মতো গত বছরের ডিসেম্বরে উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢুকতে গিয়ে ধরা পড়ে যান ঝর্ণা। সম্প্রতি বনগাঁ আদালতের দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক প্রদীপকুমার অধিকারীর এজলাসে তিনি তাঁর দোষ স্বীকার করেন। বিচারক তাঁকে চার বছর সশ্রম কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছ’মাস হাজতবাসের নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে আদালতের মন্তব্য, সাজার মেয়াদ শেষ হলে ওই বধূকে দ্রুত বাংলাদেশে ফেরক পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। 
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈধ নথিপত্র না থাকায় পুলিস তাঁর বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের মামলা দায়ের করেছিল। সেই মামলা বিচারের জন্য বনগাঁর এসিজেএম থেকে দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারকের এজলাসে যায়। সম্প্রতি চার্জ গঠন করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা ছিল। তাই অভিযুক্তকে জেল থেকে বনগাঁ আদালতে হাজির করানো হয়। শুনানির সময় অভিযুক্ত ঝর্ণা কাঁদতে কাঁদতে বিচারককে বলেন, ‘আমি শুনানি চাই না। দোষ স্বীকার করতে চাই।’ বিচারক অনুমতি দিলে ঝর্ণা বলেন, ‘বাংলাদেশে ঠিকমতো চিকিৎসা পাচ্ছিলাম না। বাড়ির লোকজন যেভাবেই হোক আমাকে ভারতে চলে আসতে বলে। তাঁদের স্থির বিশ্বাস, এখানকার  জেলে থাকলেও সুষ্ঠু চিকিৎসাটা অন্তত পাওয়া যাবে।’ সমস্ত বক্তব্য শোনার পর বিচারক বলেন, ‘বিষয়টি মানবিক হলেও আপনার বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের অভিযোগ রয়েছে। আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নিতেই হবে। কারণ, আপনি আদালতের কাছে দোষ কবুল করেছেন। সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা চলাকালীন জেল কোড অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাবেন সংশোধনাগারের হাসপাতালে। সাজার বিষয়ে আপত্তি থাকলে আপনি উচ্চ আদালতে আবেদন করতে পারেন।’ এই সাজা শোনার পর কান্নায় ভেঙে না পড়ে ভাবলেশহীনভাবে সোজা জেলে যাওয়ার গাড়িতে উঠে বসেন খুলনার ওই গৃহবধূ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ