নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দুর্গাপুজো হোক বা কোনো উৎসব- পার্বণে বিধায়কদের নিজেদের এলাকায় জনসংযোগে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। আগের সরকারের আমলে এ ছবি বারবার দেখা গিয়েছে। কখনও তাঁরা এলাকার দুঃস্থদের পুজো উপলক্ষ্যে নতুন জামা-কাপড় তুলে দিয়েছেন, কখনও আনন্দে মেতেছেন তাঁদের সঙ্গেই। এভাবে জনপ্রতিনিধিরা এলাকায় তাঁদের জনপ্রিয়তা ঝালিয়ে নেওয়ার একটা সুযোগও পান। এটাই হয়ে এসেছে এতদিন। কিন্তু ব্যতিক্রম ঘটেছে এবার! মমতা তৃণমূল কংগ্রেস এবং গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক বিধায়ককে এবার নিজের বিধানসভা এলাকায় সেভাবে দেখতেই পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কদের বড়ো অংশ উৎসব মরশুমেও কার্যত ‘ডুমুরের ফুল’ হয়েছিলেন। এলাকায় জনসংযোগ বা পুজো কমিটিতে যাওয়া, তদারকির কোনো ছবিও সেভাবে সামনে আসেনি। আবার যে এলাকার দীর্ঘদিনের বাসিন্দা, সেই বিধায়ককেও নিজের এলাকায় দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। পাড়ার চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দেওয়া, এলাকার জনবহুল স্থানে বসে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা, এমন ছবি দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। কেন তাঁরা এলাকায় যাচ্ছেন না, সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিলিত হচ্ছে না, এ প্রশ্ন উঠেছে সঙ্গত কারণেই। এই সূত্রেই আক্ষেপের কথা গোপন রাখেননি গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক মদন মিত্র, শিউলি সাহা। উৎসবের সময় এলাকায় যেতে না পারাটা তাঁদের সারা জীবনের মতো আক্ষেপ বলে জানিয়েছেন তাঁরা নিজেরাই।
তাঁদের মতো একাধিক বিধায়ক বলছেন, ‘নিজের বিধানসভা এলাকায় যেতে পারছি না। নানাভাবে হেনস্তা, আক্রমণের শিকার হতে হবে বলে একটা আশঙ্কা তো রয়েছেই। আবার আমাদের কর্মী-সমর্থকদের উপরও হামলা হচ্ছে। আমরা কোন দিকে যাব, এই পরিস্থিতিতে সেটাই তো বুঝতে পারছি না। বিধায়ক যদি এলাকায় না থাকেন, এলাকার মানুষের সঙ্গে সংযোগ না রাখেন, তাহলে কীভাবে সেই বিধানসভা এলাকার উন্নয়ন হবে?’
দুর্গাপুজোয় বিধায়কদের এলাকায় দেখতে পাওয়া যায়নি। আসন্ন ছট পুজো, কালীপুজো, জগদ্ধাত্রী পুজোতেও আদৌ এসব বিধায়ককে এলাকায় দেখতে পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এক বিধায়কের খেদ, ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস এসে আমাদের কী লাভ হল, সেটাই বুঝতে পারছি না!’ তবে এর মধ্যেও যথারীতি উৎসবে নিজের বিধানসভা এলাকায় সক্রিয় থাকতে দেখা গিয়েছে মমতা তৃণমূলের বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং বিধায়ক কুণাল ঘোষকে।



