নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও বারসত, সংবাদদাতা, কল্যাণী: বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে এই রবিবার এসআইআর নিয়ে ব্যস্ত থাকল তৃণমূল-সিপিএম-বিজেপি। শহর থেকে শহরতলিতে সিপিএম শুরু করে দিল এসআইআর নিয়ে ক্যাম্প। বিজেপি শুরু করল সিএএ ক্যাম্প। আর বারাসতে তৃণমূল বিজেপির সেই ক্যাম্পের বিরোধিতা করল।
এদিন সকালে যাদবপুরের পালবাজার, গাঙ্গুলিবাগানে সিপিএমের ক্যাম্পে উপস্থিত ছিলেন সুজন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, এসআইআর নিয়ে আতঙ্ক ছড়াবেন না। কোনও প্রশ্ন থাকলে, আমাদের ক্যাম্পে আসুন। সেখানেই অরিন্দম বসু নামের এক ব্যক্তি এসেছিলেন। তিনি বলেন, ‘রাজ্য সরকারের বিদ্যুত্ দপ্তরে কাজ করি। মা-দিদির নাম রয়েছে ২০০২ সালে। কতবার ভোট দিলাম, কিন্তু আমার নেই। কী করব বুঝতে পারছি না।’ এক দৃষ্টিশক্তিহীন ব্যক্তি এসে বলেন, কীভাবে দেখব ২০০২ সালের তালিকা তাও জানি না। সেজন্যই এখানে এলাম। এছাড়াও শহর ও শহরতলিতে বিভিন্ন এলাকায় ক্যাম্প শুরু করেছে সিপিএম। এদিকে, বিজেপি আবার বিভিন্ন জায়গায় সিএএ ক্যাম্প খুলে বসেছে। বারাসতে খোলা এরকমই একটি সিএএ ক্যাম্পের বিরোধিতায় সরব হয়েছে তৃণমূল। সেই ক্যাম্পে গেলে লাভ কিছু হবে না, এমনটাই মাইকিং করে মানুষকে সচেতনতার বার্তা দিল তৃণমূল। রবিবার সকালে বারাসতের হৃদয়পুরের এই ঘটনায় ব্যাপক বিভ্রান্তি ছড়ায়। দোটানায় পড়ে অনেকেই ক্যাম্পে যেতে গিয়েও আবার পথ পালটান।
বারাসত পুরসভার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের হৃদয়পুরে এদিন বিজেপির বারাসত পশ্চিম মন্ডলের তরফে সিএএর ফর্ম ফিলাপের ক্যাম্প করা হয়। বারাসত সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি রাজীব পোদ্দার বলেন, ভুয়ো ভোটারের নাম বাদ গেলে তৃণমূল ক্ষমতায় আসতে পারবে না। স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলার অরূপ পাইন পালটা বলেন, এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হতেই সিএএ নিয়ে বিজেপির ক্যাম্প করে মানুষকে প্ররোচিত করছে। এর বিরুদ্ধেই আমরা প্রচার করি। চাকদহেও রবিবার তিনটি সিএএ ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন স্থানীয় বিজেপির বিধায়ক বঙ্কিম ঘোষ। এদিন চাকদহ শহরের ৩ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এবং চাকদহ ব্লকের সিলিন্দা-১ অঞ্চলে এই ক্যাম্পগুলির উদ্বোধন হয়। বিধায়ক বলেন, সিএএ এবং এসআইআর সংক্রান্ত যাবতীয় সহায়তা এই ক্যাম্প গুলি থেকে সাধারণ মানুষ পাবেন। আমরা চাই, দল-মত নির্বিশেষে মানুষ কারও প্ররোচনায় পা না দিয়ে ক্যাম্পে নির্ভয়ে আসুন।