সংবাদদাতা, বালুরঘাট: ২০০১ সাল থেকে চলছে শিশুশিক্ষা কেন্দ্র (এসএসকে)। কিন্তু কেন্দ্রে যাওয়ার কোনও রাস্তা নেই। গ্রীষ্ম কিংবা বর্ষা- সারাবছর জমির আলপথ দিয়ে কোনওরকমে যেতে হয় এই কেন্দ্রে। বছরের অন্য সময় তেমন সমস্যা না হলেও বর্ষায় ভোগান্তি চরমে ওঠে। জুতো হাতে নিয়ে কর্দমাক্ত আলপথ দিয়ে শিশুশিক্ষা কেন্দ্রে যায় পড়ুয়ারা। বালুরঘাট ব্লকের চিঙ্গিসপুর গ্রামপঞ্চায়েতের সিংহল শিশুশিক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার রাস্তা এতদিনেও না হওয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরব হয়েছেন সহায়িকা, রাঁধুনিরাও। রাস্তা না থাকায় পড়ুয়ার সংখ্যাও তলানিতে ঠেকেছে বলে অভিযোগ। পুরো বিষয়টি খতিয়ে পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছেন বালুরঘাটের বিডিও প্রগতি নওটিয়াল (আইএএস)।
এক পড়ুয়ার অভিভাবক মঞ্জু ওরাওঁ বলেন, কেন্দ্রে যাওয়ার কোনও রাস্তা নেই। কাদা মাড়িয়ে সবাইকে যেতে হয়। বর্ষায় শিশুদের খুব অসুবিধা হয়। জুতো হাতে অনেক সময় শিশুরা পড়তে আসে। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে ব্লক প্রশাসন সবাইকে জানানো হয়েছে। কোনও লাভ হয়নি। এসএসকের একমাত্র সহায়িকা রূপালি বর্মন বলে, পঞ্চায়েত থেকে ব্লক-সব জায়গায় সমস্যার কথা জানিয়েছি। রাস্তার অভাবে প্রতিবছর পড়ুয়া কমছে। স্কুলভবনও বেহাল হয়ে পড়ছে। কয়েক বছর আগে কেন্দ্রে ৩০-৩৫ জন পড়ুয়া ছিল। বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১২ তে।
পঞ্চায়েত প্রধান রঞ্জন মাহাত বলেন, এসএসকেটি অনেক আগে তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রটির নিজস্ব রাস্তা নেই। স্থানীয়রা জায়গা দিলে রাস্তা তৈরির চেষ্টা করব। এসএসকে যাওয়ার রাস্তা না হওয়ায় বাম জমানাকেই দায়ী করেছেন বালুরঘাট পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অরূপ সরকার। বলেছেন, বাম আমলে অপরিকল্পিতভাবে কেন্দ্রটি তৈরি হয়। মাঠের মাঝখানে সেটি তৈরি করা হয়েছে। কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য সরকারি কোনও রাস্তা নেই। এনিয়ে আমরা সেখানকার জমি মালিকদের সঙ্গে কথা বলব। জমি দিলে রাস্তা করে দেওয়া হবে।
এবিষয়ে সিপিএমের জেলা সম্পাদক নন্দলাল হাজরা বলেন, ওখানে রাস্তা ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার রাস্তা সংস্কার করেনি। বর্তমান সরকার চাইলে রাস্তা তৈরি করতে পারত। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে আমাদের দোষ দেওয়া হচ্ছে।