Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ওষুধ খাইয়ে ইঞ্জেকশন, ওটির পোশাক পরিয়েও শেষমেশ হল না অস্ত্রোপচার!

ওষুধ খাইয়ে ইঞ্জেকশন, ওটির পোশাক পরিয়েও শেষমেশ হল না অস্ত্রোপচার!
  • ২৯ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: হার্নিয়া অস্ত্রোপচারের জন্য রোগীকে খাওয়ানো হয়েছিল ওষুধ, একাধিক ইঞ্জেকশন দিয়ে অ্যাপ্রন পরিয়ে পাঠানো হয় ওটির সামনে। কিন্তু আচমকাই তাঁদের অপারেশন বাতিল ঘোষণা করেন ডাক্তার। ছুটি দেওয়া হয় রোগীদের! একটি বা দু’টি নয়, শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে সোমবার এরকমই বেশ কয়েকজন রোগীর সঙ্গেই এমন ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, এদের মধ্যে একাধিক রোগীকে আবার পাশের বেসরকারি নার্সিংহোমে গিয়ে সেই অস্ত্রোপচার করানোর ‘নিদান’ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কর্তব্যরত সার্জনের বিরুদ্ধে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন রোগীর পরিজনরা। বেশ কয়েকটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত সার্জনকে শোকজ করা হয়েছে বলে দাবি হাসপাতাল সুপারের। 

Advertisement

জানা গিয়েছে, হার্নিয়া অপারেশনের জন্য শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে সোমবার একাধিক রোগীকে ভর্তি নেওয়া হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের ওষুধ খাওয়ানো হয়। এমনকী তিন দফায় একটি করে ইঞ্জেকশনও দেওয়া হয়। এরপর নির্দিষ্ট সময়ের আগে স্নান করে অ্যাপ্রন পরে অপারেশন থিয়েটারের সামনে চলে আসতেও বলা হয়। কিন্তু অভিযোগ, অপারেশনের ঠিক আগেই আচমকা শল্য চিকিৎসা বিভাগের চিকিৎসক রাজশ্রী দে রোগীদের জানান, সেখানে অস্ত্রোপচার হবে না। প্রত্যেককেই ছুটি নিয়ে তিনি বাড়ি চলে যেতে বলেন। এতে অনেক রোগীই ফাঁপরে পড়েন। পাল্টা চিকিৎসককে চেপে ধরা হলে তিনি নাকি পার্শ্ববর্তী বেসরকারি নার্সিংহোমে এসে হার্নিয়া অপারেশন করে নেওয়ার ‘নিদান’ দেন। 
শান্তিপুর ব্লকের বাবলা পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা সৌমেন সাধুখাঁ বলেন, সকাল থেকে না খাইয়ে রেখে তিনটে ইঞ্জেকশন দেওয়া হয় আমায়। অপারেশন থিয়েটার থেকে হঠাৎ ডাক্তারবাবু বেরিয়ে বলেন, অস্ত্রোপচার হবে না। তাহলে কী করব? পাল্টা প্রশ্ন করায় তিনি আমাকে পাশের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে অপারেশন করে নেওয়ার কথা বলেন। বাধ্য হয়েই আমি হাসপাতাল সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে গরিব মানুষ কী করে অপারেশন করবেন? এই বিষয়টির তদন্ত হওয়া দরকার। একই অভিযোগ শান্তিপুর সুত্রাগড় এলাকার বাসিন্দা ৬৮ বছর বয়সি তপন দেবনাথের। তিনি বলেন, ২৬ তারিখ আমি অপারেশনের জন্য শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলাম। আমাকে ওষুধ খাইয়ে ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছিল বেশ কয়েকটা। তারপর বলা হয় স্নান করে অ্যাপ্রন পরে ওটিতে চলে আসতে। আমরা সেখানে চলেও গিয়েছিলাম। হঠাৎ করে ডাক্তারবাবু বললেন অপারেশন নাকি আর হবে না। এটা একবার নয়, এই নিয়ে তিনবার আমি ভর্তি হয়ে ফিরে পেলাম। এত হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে কেন? 
সিনিয়র রেসিডেন্ট চিকিৎসক রাজশ্রী দে’র দাবি, বেসরকারি নার্সিংহোমে অস্ত্রোপচার করানোর নিদান তিনি কাউকেই দেননি। এটি মিথ্যে অভিযোগ। চারজন রোগী ছিলেন। কিন্তু প্রথম রোগীকে অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে দেখি মেশিন কাজ করছে না। আমি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সমস্ত বিষয় জানিয়েছিলাম। এদিকে, বিষয়টি নিয়ে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালের সুপার তারক বর্মন বলেন, অপারেশন যে হয়নি এটা সত্যি। অভিযুক্ত চিকিৎসককে শোকজ করা হয়েছে। একটি মেশিন খারাপ ছিল ঠিকই। কিন্তু বাকি মেশিন তো খারাপ নেই। সামান্য ইলেকট্রিক্যাল সমস্যা হয়েছিল। কিন্তু তা পরমুহূর্তে মিটেও গিয়েছে। আমি বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছি। পাশের নার্সিং হোম থেকে অপারেশন করানোর বিষয়টি বলা হয়েছিল কি না, সেই বিষয়টিও খোঁজ নিয়ে দেখছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ